ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলছে জি২০’র ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। শনিবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধিত্বমূলক প্ল্যাকার্ডে ইন্ডিয়ার (India) পরিবর্তে লেখা হয়েছে ভারত (Bharat)।
এর ফলে, দেশের নাম ইন্ডিয়া বাদ দিতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রচেষ্টা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢাললো নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আফ্রিকান ইউনিয়নের জি-২০ তে স্থায়ী সদস্যপদ লাভের ঘোষণা দেন। তখন দেখা যায়, তার সামনের প্ল্যাকার্ডে ইংরেজিতে ভারত (Bharat) লেখা।
এর আগে সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি বিদেশি অতিথিদের সম্মানে শনিবার একটি নৈশভোজের আয়োজন করছেন। এতে যোগ দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি দেয়া চিঠিতে ‘প্রেসিডেন্ট অব ইন্ডিয়া’র বদলে লেখা হয় ‘প্রেসিডেন্ট অব ভারত’।
এরপর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এ নিয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিলেও তাদের পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, ভারতের নাম ইংরেজিতে আর ইন্ডিয়া ব্যবহার করেন না মোদি সরকার।

তবে এটি প্রথমবার নয় যে সরকারি কোনো নথিতে বা পত্রে ভারত ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গ্রিস সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘প্রাইমমিনিস্টার অব ভারত’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রাচীন হিন্দি নামের সাংস্কৃতিক শিকড় উল্লেখ করে ভারত ব্যবহারে উল্লাস প্রকাশ করেছে। কিছু নেতা দাবি করেছেন ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়া’ একটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার।
দলটি অবশ্য ‘ভারত বনাম ইন্ডিয়া’ বিতর্কে যাওয়া এড়িয়ে গেছে। তবে নেতারা বলছেন সংবিধান অনুযায়ী দেশের জন্য উভয় নামই ব্যবহার করা যাবে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্দা নামবে জি-২০’র শীর্ষ সম্মেলনের। এরপর জি২০ জোটের প্রেসিডেন্সি ব্রাজিলের কাছে হস্তান্তর করবেন নরেন্দ্র মোদি। ১ ডিসেম্বর থেকে ব্রাজিলের জন্য তা কার্যকর হবে। আগামী ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে রিও ডি জেনেরো।


















