প্রতিবেশী দেশ বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই প্রথম বাইরের কোনো দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করল মস্কো। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শুরু হয়েছে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে। শুক্রবার সেই সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সতর্কবার্তা দিতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো বেলারুশের ভূখণ্ডে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র প্রথমগুলো, প্রথম অংশ। তবে আমরা গ্রীষ্মের শেষের দিকে বা বছরের শেষ নাগাদ এই কাজটি সম্পূর্ণ করব।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়ার বাইরে এই প্রথম স্বল্প-পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করলো মস্কো। ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দেয়ার বিষয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করা এর উদ্দেশ্য বলে জানান পুতিন।
পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র লুকাশেঙ্কো মঙ্গলবার বলেন, তার দেশ রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ করা শুরু করেছে। ১৯৪৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের উপর যে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল তার চেয়ে তিনগুণ বেশি শক্তিশালী অস্ত্রও এর মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে, মার্চ মাসে পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি বেলারুশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনে সম্মত হয়েছেন। এটি বহু দশক ধরে ইউরোপীয় দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের দিকে ইঙ্গিত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে তার নিজস্ব অবস্থান পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা নেই এবং রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন কোনো লক্ষণ তারা দেখেনি।
রাশিয়ার পদক্ষেপটি ওয়াশিংটন এবং তার মিত্রদের পাশাপাশি চীন দ্বারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যারা বারবার ইউক্রেনের যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।


















