ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ন

সিরিয়ায় আইএস প্রধান নিহত: দাবি এরদোয়ানের

সিরিয়ায় অভিযান চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শীর্ষ নেতাকে তুর্কি বাহিনী হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গত বছর তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর আবু হুসেইন আল-কুরাইশি গোষ্ঠীটির দায়িত্ব নেন বলে জানা গেছে।

তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল টিআরটি তুর্ককে এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি দীর্ঘদিন ধরে কুরাইশির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ এপ্রিল) রাতে এমআইটির এক অভিযানে আইএস নেতা নিহত হয়।

অবশ্য আইএস এখন পর্যন্ত তুরস্কের এ অভিযান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। এছাড়া বিবিসিও নিরপেক্ষভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে সিরিয়ার সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে ইসলামিক স্টেট তাদের নেতা প্রধান নেতা আবু হুসেইন আল-কুরাইশির মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সেসময় জানায়, তিনি ২০২২ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ায় বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অভিযানে কুরাইশি নিহত হন।

এর আগে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্দুকযুদ্ধের পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী পূর্ববর্তী নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশির আস্তানা ঘিরে ফেললে তিনি একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে এবং তার পরিবারকে হত্যা করেন।

এই অপারেশন ‘বিশ্বের জন্য একটি বড় সন্ত্রাসী হুমকিকে সরিয়ে দিয়েছে’, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেসময় বলেছিলেন।

বিবিসি বলছে, আইএস একসময় উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে উত্তর ইরাকজুড়ে ৮৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে ছিল। এসময় তারা প্রায় ৮০ মানুষের উপর তার নৃশংস শাসন চাপিয়েছিল।

২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে তার শেষ অবস্থান থেকে বিতাড়িত করা হয়। তবে জাতিসংঘ গত জুলাই মাসে সতর্ক করেছিল যে এটি এখনও হুমকি রয়ে গেছে।

সিরিয়া এবং ইরাকে ছয় থেকে ১০ হাজার আইএস যোদ্ধা রয়েছে বলে অনুমান করা হয়, যারা বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত এবং হিট-এন্ড-রান হামলা, অ্যামবুশ এবং রাস্তার পাশে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আইএসের আঞ্চলিক সহযোগীরা বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও হুমকি সৃষ্টি করে।

জাতিসংঘ বলেছে, আইএসের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুপ্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্কগুলো আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং লেক চাদ অববাহিকায় অবস্থিত।

সূত্র: বিবিসি,রয়টার্স

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ