ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর শহর খেরসনে রাশিয়ার সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং বেসামরিক লোকদের হত্যার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর গত সপ্তাহে রুশ সৈন্যদের হঠিয়ে শহর খেরসন পুনর্দখল করেছে কিভের বাহিনী।
জেলেনস্কি রবিবার তার রাতের ভিডিও ভাষণে বলেন, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে ৪০০ টিরও বেশি রাশিয়ান যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করেছে। অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক এবং সেনাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মৃতদেহগুলি কোথায় পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, রাশিয়ান সেনাবাহিনী দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যে বর্বরতা করেছিল, একই বর্বরতা রেখে গেছে।
জেলেনস্কির অভিযোগগুলি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং রুশ সৈন্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া ।
রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন স্থানে গণকবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে উত্তর-পূর্ব খারকিভ অঞ্চলে এবং রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচায় আবিষ্কৃতগুলো উল্লেখযোগ্য।

ইউক্রেন এই অপরাধের জন্য রুশ সেনাদের অভিযুক্ত করেছে। এছাড়াও অক্টোবরে জাতিসংঘের একটি কমিশন বলেছিলো, ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে রাশিয়া।
উল্লেখ্য, এক টানা ৮ মাস লড়াইয়ের পর রুশ সৈন্যদের হঠিয়ে ইউক্রেনের বন্দর শহর খেরসন পুনর্দখল করেছে কিভের বাহিনী। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের প্রতি ইঞ্চিতে এখনও রয়ে গেছে লড়াইয়ের ক্ষত। খাবার পানি নেই, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, এমনকি পাওয়া যাচ্ছে না ইন্টারনেট সংযোগও। তাতেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ খেরসনবাসী পথে নেমে উচ্ছ্বাসে মাতছেন। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, গলা ফাটিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে খেরসনের ইউক্রেনীয়রা গভীর স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা

















