গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়ি মার-এ-লাগোতে অভিযান চালিয়ে ১১ হাজারের বেশি সরকারি নথি ও ছবি উদ্ধার করে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এর মধ্যে কিছু নথি ‘টিএস/এসসিআই’ বলে চিহ্নিত করা।
এর অর্থ হলো- এসব দলিলপত্রে এমন সব তথ্য আছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘নজিরবিহীন গুরুতর ক্ষতির’ কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও গোপন নথি সরানোর অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করা হলে তিনি গোপন তথ্য ফাঁস করে দিতে পারেন। তাই এ ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতেও শঙ্কিত বিচার বিভাগ। কার্যত ক্ষমতায় না থেকেও ট্রাম্প ক্ষমতাচর্চা করে চলেছেন তার শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের রাজনীতি ও মার্কিন সমাজে বর্ণবাদী বিভাজন আরও জোরালো হওয়ার কারণে। আর এর মধ্য দিয়েই ট্রাম্প নিজের ভবিষ্যৎ দেখছেন।
গোপন নথি উদ্ধারের পর ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় কাজ করেননি এবং এসব নথি গোপনীয় বলে যে তকমা ছিল তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালে ট্রাম্প ওই নথিগুলোকে গোপনীয় রাখা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তার নির্দেশ ছিল ওভাল অফিস থেকে যেসব নথিপত্র সরানো হবে এবং তার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে সেগুলো ডি-ক্লাসিফাইড নথি অর্থাৎ সরকারিভাবে গোপনীয় নয়। কোন নথিকে গোপনীয় বলে চিহ্নিত করা হবে এবং কোন নথিকে এই শ্রেণিতে রাখা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের। একটা নথিকে গোপনীয় রাখা হবে না এমন সিদ্ধান্তের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নির্ধারিত কোনো আমলার অনুমোদন লাগবে- এ ধারণা অবাস্তব।’
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবিধানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কোনো নথিকে গোপন, বা গোপন নয়- এমন ঘোষণা করতে পারেন। তবে ওই নথিগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের মুখপাত্র টেলর বুডোউইচ গোয়েন্দা সংস্থার তল্লাশি অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প যেহেতু ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বিবেচনা করছেন, তাই তাকে ‘রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল’ করার একটি চেষ্টা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে। এ নির্বাচনে ১০০ আসনের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবগুলোতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ, আফগানিস্তান থেকে সৈন্য ফিরিয়ে আনা, বা অভ্যন্তরীণ সামাজিক বিভক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আর এর আগে বর্তমান বাইডেন ও ট্রাম্প একে-অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম রাখছেন। এবার উত্তপ্ত বক্তব্যের মাঠ পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য। সেখানে সিনেটর ও গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাইডেন কয়েক দিন আগে এই নির্বাচনী এলাকাতে দেওয়া এক ভাষণে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ও তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলন মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতি এক ‘চরমপন্থি’ হুমকি।
এর জবাবে গত ৪ সেপ্টেম্বর বাইডেনকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। বক্তৃতায় ট্রাম্প তার উপর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আসল হুমকি হচ্ছে বামপন্থিরা।’ ভাষণে ট্রাম্প হুমকি দেন, তার বাড়িতে সরকারি অতিগোপন দলিলপত্র পাওয়া যাওয়ার ঘটনার তদন্ত হলে তা এমন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে যা যুক্তরাষ্ট্রে কখনো দেখা যায়নি। কার্যত এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকেই হুমকি দিলেন ট্রাম্প।


















