ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ন

ডলারে বাড়তি মুনাফা করায় আরও ৬ ব্যাংককে শোকজ

ডলার কেনাবেচায় আরও কয়েকটি ব্যাংকের অস্বাভাবিক মুনাফা করার প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অতি মুনাফা করা এসব ব্যাংককে জবাবদিহীর আওতায় আনছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ডলারে অতি মুনাফা করায় আরও ৬ ব্যাংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে আরও ৭টি ব্যাংককে দুই দফায় শোকজ নোটিস দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন করে আরও ৬টি ব্যাংককে অতি মুনাফা করার কারণে শোকজ করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোবে নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাতে চিহ্নিত ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন করে কোন ব্যাংকগুলোকে শোকজ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডলারের বাজার অস্বাভাবিক করতে যেসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে জবাবদিহীতার আওতায় আনা হবে।’

এ ৬ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে কোন ৬ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে তিনি তা প্রকাশ করেননি।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার একাধিক কর্মকর্তা ৬ ব্যাংক সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে। নতুন করে নোটিস পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো ঢাকা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক। এর আগে ইস্টার্ন ব্যাংককে একই কারণে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমন কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে কী জানতে চাওয়া হয়েছে বা কী অভিযোগ তা দেখে জবাব দেওয়া হবে।’

চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে হঠাৎ করেই ডলারের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মুদ্রাটির এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ খুঁজতে মাঠে নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাথে নেওয়া হয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকে (এনএসআই)। এ দুই সংস্থার যৌথ অভিযানে বেশকিছু অসঙ্গতি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪২টি মানি চেঞ্জারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৫টি মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।

ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করার অভিযোগ ওঠে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। তাই ব্যাংকগুলোকেও নজরে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিদর্শনে বেশকিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ডলার কেনাবেচায় অস্বাভাবিক মুনাফা করার জন্য বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা, প্রাইম ও সাউথইস্ট ব্যাংক এবং বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপর অতি মুনাফার জন্য সেই ছয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ