ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

অবশেষে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হলেন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এর এমডি

করোনাভাইরাস মহামারিকালে অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, তার স্ত্রী নিপা সুলতানাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন-মো. খোরশেদ ও মো. জুয়েল।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর- নোয়াখালী সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির রমনা বিভাগ। ডিবির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এইচ এম আজিমুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের এমডি মো. শহীদ উল্লাহ ও তার স্ত্রী নিপা সুলতানাকে আটক করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারীকালে ঢাকার পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ গুটিয়ে এর মালিক শহিদ উল্লাহ সম্প্রতি লাপাত্তা হয়ে যান। এতে বিপাকে পড়ে ব্রোকারেজ হাউজটির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা। সঙ্কটকালে তাদের শেয়ার ও অর্থ আটকে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা।

ব্রোকারেজ হাউজটির অধীনে প্রায় ২১ হাজারের মতো একাউন্ট রয়েছে, তাতে যে শেয়ার রয়েছে, তার বাজার মূল্য ৮২ কোটি টাকার মতো বলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। এরপর দুই বিনিয়োগকারী পল্টন থানায় দুটি মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল বলেন, ‘ভুক্তভোগী দুজন মামলায় অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে এক কোটি টাকার বেশি নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন আসামি।’ ওই মামলা তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার শহীদ উল্লাহ ও তার স্ত্রীকে ঢাকায় আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে তার গ্রেপ্তার হওয়ার সময় নিয়ে ভিন্নতা আছে। গতকাল রোববারই (৫ জুলাই) শোনা গিয়েছিল মো. শহীদুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুবিধার্থে তখন গ্রেপ্তার না দেখানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৫ জুন ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলারক্ষাবাহিনীকেও জানানো হয় বিষয়টি। তখন থেকেই তাদেরকে আটক করার জন্য মাঠে ছিল পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা।

তবে মো. শহীদল্লাহ ও তার দোসররা বিনিয়োগকারীদের কি পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার আত্মসাত করেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে ব্রোকারহাউজটির গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ডিএসই। তারা এক সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দিয়েছে, তার টাকা ও শেয়ার খোয়া গিয়ে থাকলে তা ফেরত পাওয়ার সব ব্যবস্থা করবে ডিএসই।

সূত্র: শেয়ার বিজ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন