দুর্নীতির একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জেউন-হাই বিশেষ ক্ষমা পেয়েছেন। শুক্রবার দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের খাতিরে পার্ককে এ ক্ষমার আওতায় আনা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের এ ঘোষণার পর বিচারমন্ত্রী পার্ক বেওম-কাই সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ ক্ষমা পাওয়াদের তালিকায় তার নামও ছিল। ‘জাতীয় ঐক্যের’ প্রেক্ষাপটে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক ২০১৮ সালে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। এর আগে ২০১৭ সালে অভিশংসিত হন তিনি।
বিবিসির খবরে বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত এ সাবেক প্রেসিডেন্ট চলতি বছর তিনবার কাঁধ ও পিঠের নিচের অংশে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারমন্ত্রীর উদ্ধৃত্তি দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জেউন-হাইয়ের ক্ষমার বিষয়টি এ সপ্তাহের শুরুতে (বিচার) মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ক্ষমা পুনর্মূল্যায়ন কমিটির দুই দিনব্যাপী বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পেছনে অন্যতম একটি কারণ।
সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক কর্তৃত্ববাদী শাসক পার্ক চাং-হি’র কন্যা। তিনি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট।
ব্যক্তিগত লাভের জন্য বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করেছেন- এমন অভিযোগে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পার্লামেন্ট ও রাজপথে পার্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
ওই বছর ডিসেম্বরে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি করে পার্ককে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২০১৭-র মার্চে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সেই সিদ্ধান্তে সায় দিলে পার্ক ক্ষমতাচ্যুত হন।


















