ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

তালেবানের সঙ্গে তুরস্ক এবং কাতারের ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে কী?

পশ্চিমা দেশগুলো গত সপ্তাহে যখন আফগানিস্তান ছাড়ল, তখন কাবুলে বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে তা উদযাপন করছিল তালেবান। কিন্তু তালেবানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের কথিত অভিযোগ আছে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশ আফগানিস্তানকে একঘরে করে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারে। এমনটি হলে নিজের পথ নিজেদেরই আবিষ্কার করতে হবে তালেবানকে। অন্য দিকে লাখ লাখ আফগান অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে পারে বলেও পশ্চিমাদেশগুলোর ধারণা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ইসলামী শাসকদের প্রত্যাবর্তনের পর বিশ্বের বড় শক্তিগুলো এখন ঠেলাঠেলি করছে কিভাবে দেশটির ওপর প্রভাব খাটানো যায়। এই প্রক্রিয়ায় আরব ও মুসলিম বিশ্বের দু’টি দেশ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা সহায়তাকারী হিসেবে সামনে এসেছে। দেশ দু’টি হচ্ছে- কাতার ও তুরস্ক।

তালেবানের সাথে তারা সাম্প্রতিক সময়ে যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, সেটাকে তারা এখন পুঁজি করে ফল তুলছে। দুটি দেশই আফগানিস্তানে তাদের জন্য নতুন সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে দুটি দেশের জন্যই এটা এক ধরনের জুয়া খেলাও বটে, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা করতে পারে।

যেসব দেশ আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদেরকে যেন অনেকটা বাঁচিয়ে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ কাতারের কর্মকর্তারা। কাতারের কোনো না কোনো সাহায্য ছাড়া কোনো দেশই আফগানিস্তানে বড় কোনো উদ্ধার অভিযান চালাতে পারতো না। এমনটাই বলছেন ডিনা এসফানডিয়ারি। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা, যে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে গবেষণা করে।

ডিনা এসফানডিয়ারি বিবিসিকে বলেছেন, আফগানিস্তান ও তালেবান- কাতারের জন্য এক বিরাট বিজয়। এটা শুধু এ কারণেই নয় যে তারা তালেবানের সাথে মধ্যস্থতা করতে পারে, সেটা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। এই সাফল্য আসলে আফগানিস্তান সঙ্কটে জড়িত পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে কাতারকে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো যখন কাবুল ছেড়ে পালাচ্ছিল, তখন কাতারের এসব যোগাযোগের কূটনৈতিক মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোওয়াহ আলখাতেরের টুইটার ফিডজুড়ে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর প্রশংসার রি-টুইট।

এ মাসের শুরুতে এক টুইটে তিনি লিখেছেন, এই সঙ্ঘাতে কাতার এক বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে ডিনার মতে, তালেবানের সাথে এরকম একটি সংযোগ সেতু গড়ার চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্বে যে ফাটল ইতোমধ্যে আছে, সেটি আরো বাজে দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই অঞ্চলের ইসলামী আন্দোলনগুলোর সাথে কাতার ও তুরস্ক- উভয় দেশেরই ঘনিষ্ঠতা আছে। এ নিয়ে মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে তাদের প্রায়শই উত্তেজনা তৈরি হয়। এই তিনটি দেশ আবার ইসলামী আন্দোলনকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করে।

দক্ষিণ এশিয়ায় তালেবানের সাথে সারাবিশ্বের হয়ে কূটনীতি করে এই দু’টি দেশ যদি মনে করে, তারা লাভবান হয়েছে, এর প্রভাব কি এখন মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পড়তে পারে?

এমন প্রশ্নে ডিনা এসফানডিয়ারি বলেন, তালেবান যেভাবে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে এসেছে, তা আসলে রাজনৈতিক ইসলামের পুনরুত্থান। সরকার ব্যবস্থা ও সমাজকে তারা ইসলামী আইন অনুযায়ী পুনর্গঠন করতে চায়। তবে এখন পর্যন্ত এটি দক্ষিণ এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ। এটি কেবল আফগানিস্তানেই ঘটছে। এর মানে এই নয় যে মধ্যপ্রাচ্যেও এটা দেখা যাবে। গত ১০ বছর ধরে এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ ইসলামী গোষ্ঠী ও তাদের বিরোধীদের মধ্যে হাতবদল হচ্ছে।

তালেবানের সাথে আলোচনা

১৯৯০-এর দশকে তালেবান যখন প্রথম আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন মাত্র তিনটি দেশের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল। দেশগুলো হচ্ছে- পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তালেবানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপরও গোপনে আরো কয়েক বছর ধরে তালেবানকে অর্থ সাহায্য করার অভিযোগ আছে সৌদি আরবের কিছু ব্যক্তির ব্যাপারে। যদিও সৌদি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অর্থ সাহায্য দেয়ার কথা অতীতে অস্বীকার করেছেন ও বলেছেন, কোনো ব্যক্তিগত অর্থ সাহায্য যাতে তালেবানের কাছে যেতে না পারে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের অব্যাহত উপস্থিতির বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে যখন জনমত প্রবল হতে থাকল, তখন এ নিয়ে কূটনীতির সুযোগ খুলে গেল অন্য কিছু দেশের জন্য।

কাতার ও তুরস্কের সাথে তালেবানের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পথে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ করতে চাইছিলেন, তখন কাতার ২০১১ সাল থেকে তালেবান নেতাদের জন্য এক সম্মেলনের আয়োজন করে শান্তি-প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলার জন্য। দোহারে চোখ ঝলসানো একটি এলাকায় যখন পত পত করে উড়ছিল তালেবানের পতাকা, তখন এতে অনেকে আহতবোধ করেছেন (যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে পরে তালেবানের পতাকার খুঁটির উচ্চতা কমিয়ে দেয়া হয়েছিল)। তবে এর ফলে কাতার একটি নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের সুযোগ পেয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব আর ইরানের দ্বন্দ্বের মাঝখানে থাকা কাতার এরকম একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিল তিন দশক ধরে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে গত বছর দোহায় শান্তি আলোচনায় শেষ পর্যন্ত যে সমঝোতা হয়, তাতে এ বছরের মে মাস নাগাদ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার পর এই সময়সীমা বাড়িয়ে দেন এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সতর্ক আশাবাদ

তুরস্কের সাথে আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক ও জাতিগত সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যারা নেটোর সদস্য। নেটো জোটের সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে তাদের সেনাদলও ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক তালেবানের সাথে সম্পর্ক আছে এমন কিছু মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সাথে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা গোয়েন্দা সম্পর্কও গড়ে তুলেছিল। তুরস্ক একইসাথে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানেরও মিত্র, যেখানকার মাদরাসাগুলো থেকে প্রথম তালেবান নামে সংগঠনের উত্থান হয়েছে বলে বিবিসি দাবি করেছে।

গত সপ্তাহে কাবুল বিমানবন্দরে যখন চরম বিশৃঙ্খলা, তখন তুরস্কের কর্মকর্তারা তালেবানের সাথে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা চালান। এরমধ্যে একটি আলোচনার বিষয় ছিল ভবিষ্যতে কিভাবে কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে। তুরস্কের সৈন্যরা গত ছয় বছর ধরে এই বিমানবন্দর পাহারা দিয়েছে। তালেবান অবশ্য আগে থেকেই দাবি জানাচ্ছিল যে আর সবদেশের মতো তুরস্কের সৈন্যদেরও আফগানিস্তান ছাড়তে হবে ‘বিদেশি দখলদারিত্বের’ অবসানের জন্য। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে তালেবানের সাথে তুরস্কের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল অনেক ব্যাপক।

প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তিনি তালেবানের নেতাদের বার্তাকে বেশ ‘সতর্ক আশাবাদের’ সাথে বিবেচনা করছেন। তালেবানের সাথে তুরস্কের এসব যোগাযোগের যে সমালোচনা হচ্ছে, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, তিনি কার সাথে কথা বলবেন, তার জন্য কারও কাছ থেকে তিনি ‘অনুমতি’ নেন না।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে কূটনীতি। আফগানিস্তানের ঐক্যের জন্য তুরস্ক সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে তুরস্ক খুব সতর্ক পথে এগুবে।

ইস্তাম্বুলের আলতিনবাস ইউনিভার্সিটির আফগানিস্তান-বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আহমেদ কাসিম হান মনে করেন, তালেবানের সাথে এভাবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোগান কিছু সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। আফগানিস্তানে তালেবান যদি তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, তাদের অনেক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও বিনিয়োগ দরকার হবে। এখন তো সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেয়ার সক্ষমতাও তালেবানের নেই।

প্রফেসর আহমেদ কাসিম হান বলেন, তুরস্ক হয়তো এক্ষেত্রে নিজেকে জামিনদার, মধ্যস্থতাকারী বা সহায়তাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। রাশিয়া বা চীনের চাইতেও বিশ্বস্ত এক মধ্যস্থতাকারী, যারা এখনো কাবুলে তাদের দূতাবাস খোলা রেখেছে। তার মতে, তুরস্ক এই ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অনেক দেশই তাদের সাথে কিছু একটা সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে দোহা চ্যানেলের মাধ্যমে। তবে যেসব দেশ আফগানিস্তানে তাদের সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, তুরস্ক তার অন্যতম। এখানে ঝুঁকিও আছে অনেক।

প্রফেসর হান মনে করেন, আফগানিস্তানের তালেবানের সাথে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার পররাষ্ট্রনীতির ‘দাবার বোর্ডটি’ আরো বড় করতে পারবেন। এ নিয়ে তার রাজনৈতিক দল একে পার্টির সমর্থকদের কাছ থেকে বাহবা নিতে পারবেন। তারা মনে করে, তুরস্ক এমন এক দেশ, যার একটা পূর্বনির্ধারিত নিয়তি আছে, তারা মনে করে, মুসলিম বিশ্বে তুরস্কের একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান আছে। এর ভিত্তি হচ্ছে তুরস্কের অতীত ইতিহাস, খেলাফতের দেশ হিসেবে তার অটোমান ঐতিহ্য। তবে এই ভূমিকার পরিণামে তুরস্কসহ অন্য যেকোনো দেশ যদি তালেবানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠে… সেখানে শরিয়া শাসন প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে তুরস্ক সেখানে থাকবে না।

এরদোগানের এই পদক্ষেপের পেছনে কিছু যুক্তিসঙ্গত উদ্দেশ্যও হয়তো আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর সাথে সম্পর্কে যে টানাপোড়ন তৈরি হয়েছে, সেটি সারিয়ে তোলা। একইসাথে আফগানিস্তান থেকে তুরস্কে যাতে শরণার্থীদের ঢল না নামে, এ জন্যে আগে থেকেই সেখানে প্রভাব তৈরি করে তা থামানো।

আফগানিস্তানে কেন যুদ্ধ চলছে?

কাতার আশা করছে, তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা উপসাগরীয় অঞ্চলে বহু বছরের অস্থিরতা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বড় বড় সঙ্ঘাতে দোহা প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে আরব বসন্তের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অভিযোগ করছে, কাতার ইসলামপন্থীদের পক্ষ নিচ্ছে।

২০১৭ সালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন কাতারের সাথে সম্পর্ক ছেদ করেছিল। যদিও পরে সেই সম্পর্ক এখন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তারা ইরানের খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-জাজিরা টেলিভিশনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। কাতার অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এখন আফগানিস্তানের মানুষের সামনে যখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, তখন কাতার ও তুরস্কই প্রকৃতপক্ষে বাকি বিশ্বের অনেক দেশের হয়ে তালেবানের সাথে কথা বলছে। অন্য দিকে চীন ও রাশিয়াও কাবুলের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সূত্র : বিবিসি বাংলা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ