ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ন

ভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি নিয়ে যা বলল তুরস্ক

ভূমধ্যসাগরে ১২৭ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ায় ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অতি সাম্প্রতিক এই ট্র্যাজেডির পর অবৈধ অভিবাসন চেষ্টার কারণ শনাক্ত করে এক বিবৃতি দিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২ জুলাই) টিউনিশিয়ার উপকূলবর্তী শহর জারজিস এর কাছে পৌঁছানোর পর নৌকাটি ডুবে যায়। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে সেটি যাত্রা করেছিল।

ভূমধ্যসাগরের এ ট্র্যাজেডির পর রোববার (৪ জুলাই) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এটাই প্রথম বা শেষ নয়। ভূমধ্যসাগরে শুধু এ বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৬ অভিবাসন প্রত্যাশী। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্ক বা লিবিয়া কেউ অনিয়মিত অভিবাসনের উত্স নয়। এমন অভিবাসনের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ হলো- আফ্রিকা, আফগানিস্তান এবং সিরিয়ায় নানা অস্থিতিশীলতা, দ্বন্দ্ব এবং দারিদ্র্য।

ভূমধ্যসাগরের এমন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। তারা বলেছে, ৮৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা গেলেও ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অভিবাসন নিয়ে সহজ নীতিমালা না থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমালোচনাও করেছে দেশটি। সাগর থেকে মানুষকে উদ্ধার করা উভয় রাষ্ট্রের আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে জানিয়ে তুরস্ক বলছে, সমুদ্র থেকে উদ্ধার এবং অনুসন্ধানের দায়বদ্ধতার সমন্বয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি ইইউ।

অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধের কারণগুলো শনাক্ত করে কোনো সমাধান খুঁজে না পেলে এ ধরনের ট্র্যাজেডি অব্যাহত থাকবে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মন্ত্রণালয়। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিবাসনের সমাধান খুঁজতে এবং সমান বোঝা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জুলাই) তিউনিশিয়ার রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, লিবিয়ার উত্তর–পশ্চিম উপকূলের জুয়ারা থেকে নৌকায় করে অভিবাসীরা যাত্রা শুরু করেছিলেন।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাতে ১২৭ অভিবাসী বহনকারী নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় ৮৪ জনকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন ৪৩ জন। অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে বাংলাদেশি, চাদ, মিশর, ইরিত্রিয়া এবং সুদানের নাগরিক রয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলেও ভূমধ্যসাগরে এমনই এক ট্র্যাজেটি ঘটেছে। এক জাহাজ দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ