ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় আজ

ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আজ মঙ্গলবার। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করবেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে আদালত।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলো সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ এবং উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী। মামলার তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে ফারাবী ছাড়া অন্যরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। আসামি জিয়া ও আকরাম পলাতক। জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফীন দীপন হত্যা মামলায় একই আদালতে এ দুজনসহ আবু সিদ্দিক সোহেল ও মোজাম্মেল হোসাইনের ফাঁসির রায় হয়েছে গত ১০ ফেব্রুয়ারি।

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফারাবীর বিরুদ্ধে এ হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানটি এমন যে, যারা হত্যায় অংশ নেবে এবং প্ররোচনা দেবে উভয়েই সমান অপরাধ করেছেন মর্মে গণ্য হবে। এ মামলায় আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করছি।’

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসির সামনে জঙ্গিদের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন অভিজিৎ রায়। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা অভিজিতের সঙ্গে ছিলেন এবং হামলায় তিনিও আহত হন। জঙ্গিদের চাপাতির কোপে হাতের একটি আঙুল হারান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি ও মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। হত্যাকান্ডের পর অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটিটিসি) ইউনিট তদন্ত করে। একই বছরে ব্লগার ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়সহ একাধিক ব্লগার, লেখক ও প্রকাশককে হত্যা কিংবা হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনী জাগৃতি কার্যালয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় ফয়সল আরেফির দীপনকে। নিহত দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের ছেলে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দীপন হত্যা মামলায় ৮ জঙ্গির ফাঁসির রায় দেয় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

অভিজিত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় সিটিটিসি। আসামিদের মধ্যে মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাওয়ায় এবং এ হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া জঙ্গি দলটির নেতৃত্বে থাকা মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় এ তিনজনের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ১ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ হয়। মামলায় ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। ঘটনার প্রায় ছয় বছর ও বিচার শুরুর দেড় বছরের বেশি সময় পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হচ্ছে। ছেলেকে হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন অধ্যাপক অজয় রায়। তবে এর কিছুদিন পর ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর বিচার দেখে যাওয়ার আগেই মারা যান তিনি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ