বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজারে নিজেদের মডেলের বৈচিত্র্য বাড়াতে হান্টার ৩৫০-এর আটটি নতুন রঙের সংস্করণ এবং ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর তিনটি নতুন মডেল উন্মোচন করেছে রয়্যাল এনফিল্ড।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাঝারি ইঞ্জিনক্ষমতার (২৫০–৭৫০ সিসি) মোটরসাইকেলের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন মডেল দুটি এনেছে রয়্যাল এনফিল্ড। বাংলাদেশের বাজারে মোটরসাইকেল দুটি ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে।
নতুন সংস্করণগুলোতে যুক্ত হয়েছে আকর্ষণীয় সব রঙ। এতে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও সুযোগ পাবেন। তবে মডেল দুটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী নকশা ও আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা আগের মতোই রাখা হয়েছে।
নতুন হান্টার ৩৫০ পাওয়া যাবে আটটি রঙে—রেবেল ব্লু, ড্যাপার গ্রে, লন্ডন রেড, টোকিও ব্ল্যাক, রিও হোয়াইট, গ্রাফাইট গ্রে, মুনশট হোয়াইট ও মুম্বাই ইয়েলো।

মোটরসাইকেলটিতে যুক্ত হয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ, এলইডি হেডলাইট এবং টাইপ-সি ইউএসবি ফাস্ট চার্জিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। পাশাপাশি উন্নত সাসপেনশন ও আরামদায়ক সিট এর ব্যবহারিক সুবিধা বাড়িয়েছে। আধুনিক নকশা, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে হান্টার ৩৫০ শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের উপযোগী।
অন্যদিকে, ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন তিনটি সংস্করণ পাওয়া যাবে গান গ্রে, মেডেলিয়ন ব্রোঞ্জ ও এমারেল্ড গ্রিন রঙে। রয়্যাল এনফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী নকশা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন মডেলগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং টাইপ-সি ইউএসবি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা।
পাশাপাশি উন্নত সাসপেনশন ও আরামদায়ক সিট মোটরসাইকেলটির ব্যবহারিক সুবিধা আরও বাড়িয়েছে। রয়্যাল এনফিল্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক ডিজাইন, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে হান্টার ৩৫০ শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের জন্য একটি আদর্শ মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন মডেলগুলো পাওয়া যাবে তিনটি আকর্ষণীয় রঙ ও সিরিজে-ডার্ক সিরিজের গান গ্রে, হেরিটেজ প্রিমিয়াম সিরিজের মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ এবং ক্রোম সিরিজের এমারেল্ড গ্রিন।
রয়্যাল এনফিল্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর অনন্য নকশা ও চিরায়ত আবেদন নতুন মডেলগুলোতেও অক্ষুণ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ফিচারের সমন্বয়ে মোটরসাইকেলটি হয়ে উঠেছে আরও ব্যবহারবান্ধব। অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং টাইপ-সি ইউএসবি ফাস্ট চার্জিংয়ের মতো সুবিধা দৈনন্দিন যাত্রাকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।
নতুন মোটরসাইকেল উন্মোচন উপলক্ষে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন মডেলগুলো নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দুটি মোটরসাইকেলেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র আবেদন, যা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রাইডারদের পছন্দ ও রুচির প্রতিফলন ঘটায়। নতুন রঙের সংযোজনের ফলে গ্রাহকরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পছন্দ অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এই মডেলগুলো বাংলাদেশের রাইডারদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।
হান্টার ৩৫০
হান্টার ৩৫০ রয়্যাল এনফিল্ডের একটি আধুনিক রোডস্টার মোটরসাইকেল, যা মূলত কমপ্যাক্ট ডিজাইন, সহজ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজস্ব স্টাইল পছন্দ করেন এমন রাইডারদের জন্য তৈরি। এর স্বতন্ত্র নকশা, আরামদায়ক রাইডিং পজিশন এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলকে আরও সহজ ও উপভোগ্য করে তোলে। একইসঙ্গে মোটরসাইকেলটিতে রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ডের নিজস্ব পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য।
নতুন হান্টার ৩৫০-এর আটটি মডেল-রেবেল ব্লু ড্যাপার গ্রে, লন্ডন রেড, টোকিও ব্ল্যাক, রিও হোয়াইট, গ্রাফাইট গ্রে, মুনশট হোয়াইট ও মুম্বাই ইয়েলো। মার্জিত ও অভিজাত রঙ থেকে শুরু করে উজ্জ্বল ও সাহসী রঙের এই বৈচিত্র্য রাইডারদের নিজস্ব রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেবে।
ক্ল্যাসিক ৩৫০
রয়্যাল এনফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী রেট্রো ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশল ও রাইডারদের সুবিধার্থে সংযোজিত ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি ক্ল্যাসিক ৩৫০। এর অশ্রুবিন্দু আকৃতির (টিয়ার-ড্রপ শেইপ্ট) ফুয়েল ট্যাংক, স্বতন্ত্র হেডল্যাম্প, নান্দনিক মাডগার্ড এবং আইকনিক রূপ ক্ল্যাসিক ৩৫০-কে সড়কে সহজেই আলাদা করে চেনার সুযোগ করে দেয়।
ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন তিনটি মডেল-গান গ্রে, মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ ও এমারেল্ড গ্রিন। এই নতুন রঙগুলো মোটরসাইকেলটির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে এর নকশায় আধুনিকতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নতুন এই মডেলগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাইডারদের জন্য মাঝারি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের বৈচিত্র্যময় সম্ভার নিশ্চিত করার প্রতি রয়্যাল এনফিল্ডের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হলো। প্রতিটি মোটরসাইকেল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের দর্শন ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ বা মোটরসাইকেল চালানোর বিশুদ্ধ আনন্দকে তুলে ধরে।
নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ এখন সারা দেশে রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত ডিলারশিপগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন মোটরসাইকেলের মূল্যতালিকা
নতুন হান্টার ৩৫০-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ড্যাপার গ্রে, রিও হোয়াইট ও গ্রাফাইট গ্রে সংস্করণের দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে রেবেল ব্লু, টোকিও ব্ল্যাক, মুনশট হোয়াইট, লন্ডন রেড ও মুম্বাই ইয়েলোর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর মেডেলিয়ন ব্রোঞ্জ সংস্করণের দাম ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, গান গ্রের দাম ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং এমারেল্ড গ্রিনের দাম ৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী গ্রাহকরা তাদের নিকটস্থ রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত শোরুমে যোগাযোগ করতে পারবেন।
রয়্যাল এনফিল্ড সম্পর্কে
রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বের প্রাচীনতম মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, যার উৎপাদন কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি আকর্ষণীয় নকশা ও উন্নত কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে মোটরসাইকেল তৈরি করে আসছে। যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ভারতের মাঝারি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন দুই চাকার যানবাহনের বাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রয়্যাল এনফিল্ড।
রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলগুলো সহজে ব্যবহারযোগ্য, আকর্ষণীয় ও চালানোর জন্য আনন্দদায়ক। এগুলো রাইডারদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। ব্র্যান্ডটি এই দর্শনকে ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ নামে অভিহিত করে।
রয়্যাল এনফিল্ডের প্রিমিয়াম মোটরসাইকেলের সম্ভারে রয়েছে- বিয়ার ৬৫০, ক্ল্যাসিক ৬৫০, বুলেট ৬৫০, গেরিলা ৪৫০, হান্টার ৩৫০, মিটিওর ৩৫০, সুপার মিটিওর ৬৫০, ইন্টারসেপ্টর ৬৫০, কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০, শটগান ৬৫০, হিমালয়ান ৪৫০, স্ক্র্যাম ৪৪০, বুলেট ৩৫০, ক্ল্যাসিক ৩৫০ ও গোয়ান ক্ল্যাসিক ৩৫০।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শহুরে চলাচলের জন্য নতুন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ‘ফ্লাইং ফ্লি’ উন্মোচন করেছে। এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
রয়্যাল এনফিল্ড স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে রাইডারদের একটি শক্তিশালী ও উৎসাহী কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের গোয়ায় আয়োজিত বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎসব ‘মোটোভার্স’ (পূর্বনাম রাইডার ম্যানিয়া), যেখানে হাজার হাজার রয়্যাল এনফিল্ডপ্রেমী অংশ নেন। এছাড়া ‘হিমালয়ান ওডিসি’ নামে বার্ষিক রাইড আয়োজনের মাধ্যমে রাইডাররা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বিশ্বের উচ্চতম গিরিপথগুলোর কিছু অংশ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১ হাজার ২১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আইশার মোটরস লিমিটেডের একটি বিভাগ হিসেবে পরিচালিত রয়্যাল এনফিল্ডের ভারতে প্রধান শহর ও নগরগুলোতে ২ হাজার ৭৪টির বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিশ্বমানের কারিগরি উন্নয়নকেন্দ্র রয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রান্টিংথর্প এবং ভারতের চেন্নাইয়ে। এছাড়া চেন্নাইয়ের কাছে তিরুভোত্তিয়ুর, চেইয়ার, ওরাগাদাম ও ভাল্লাম ভাদাগালে রয়েছে অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা।
বিশ্বজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের সাতটি আধুনিক সিকেডি সংযোজন কারখানা রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রাজিল (দুটি), থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় অবস্থিত।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ: [email protected] ও [email protected]


















