ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

সৌদি বিমানবন্দর-তেল স্থাপনায় ফের হুথিদের হামলার হুমকি

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

মঙ্গলবার রাতে তেল উৎপাদনকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার এক দিন পর বুধবার এ হুমকি দেয় ইরানসমর্থিত গোষ্ঠীটি।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরামকোর সদর দপ্তরে হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে।

হুথিদের এই হামলা বৃদ্ধির হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এ যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠবে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথি ও সৌদি সরকারের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ছে।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পরিধি বেড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন।

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং ভবনের কয়েকটি তলায় তা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টির সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, হামলায় সীমিত পরিসরে আগুন লেগেছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্র জানায়, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন। তবে এ বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে বুধবার রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এদিন সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বুধবার রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে আগেই সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। তবে বিকট শব্দগুলোর কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি এবং কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। শব্দগুলোর কারণ জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

বুধবারের বিবৃতিতে হুথিরা দাবি করেছে, তারা ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর ও রিয়াদে আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনাগুলো থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হুথি গোষ্ঠী।

এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, ইয়েমেনের সরকার নিয়ন্ত্রিত তাইজ শহরে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতে হুথি যোদ্ধারা শহরটি ঘিরে ফেলে।

ডব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইজে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে ডব্লিউএফপি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো পৌঁছাতে পারছে না। তাদের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী এবং শিশু রয়েছেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ