ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা থাকছে না: তিন মাসের মধ্যে অনুমোদন হবে আইপিও

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন নতুন ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানি আইপিওর আবেদন করার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যেই অনুমোদন দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএসইসি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা আর থাকছে না।

তিনি বলেন, অতীতে কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন পেতে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই সময় নাটকীয়ভাবে কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনা হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। কমিশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে নতুন আইপিও আসার ক্ষেত্রে গত দুই বছরের স্থবিরতা আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়। নতুন আইপিও বিধিমালার আওতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা তিন মাস এবং এই সময়ের মধ্যেই আইপিও অনুমোদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তবে এ পদ্ধতিতে কোম্পানির যোগ্যতার মানদণ্ড আগের তুলনায় কঠোর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ করে বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে বলে জানান মাসুদ খান। এই ব্যবস্থায় একদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে কোম্পানি নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, অন্যদিকে বিদ্যমান মালিকরাও তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাবেন।

শেয়ারবাজারকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটাল এবং তাৎক্ষণিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে ব্রোকারদের পশ্চাৎ কার্যালয়ের সফটওয়্যার একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসির নজরদারি কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া বন্ড বাজারের পরিধি বাড়ানো, ডেরিভেটিভস চালু করা, শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও দেশের শেয়ারবাজারের সংস্কার এবং এর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে দেশের শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে এ অঞ্চলের অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

বিমা খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, এ খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হলে শেয়ারবাজার, বন্ড বাজার এবং অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি বড় উৎস তৈরি হবে।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ