সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা প্রথম দিনেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিন শেষে ব্যাংকটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের দাবি, টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের মধ্যে যে ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছিল, প্রথম দিনে বাস্তবে উত্তোলনের পরিমাণ তার তুলনায় কম ছিল। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে।
এই পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখার সংখ্যা ৭৬১টি। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এসব ব্যাংকের বহু গ্রাহক।
ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আমানত ফেরত পাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। এরপর সোমবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়।
টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ব্যাংকটির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক আমানতকারী।একজন গ্রাহক জানান, আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। টাকা হাতে পাওয়ার পর তাঁর সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।
প্রথম দিনেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন হলেও এখনো বিপুলসংখ্যক আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। ৭৪ হাজার আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার দাবি থাকায় আগামী দিনগুলোতে ব্যাংক শাখাগুলোতে গ্রাহকদের চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে প্রথম দিনের উত্তোলনের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় আপাতত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এখন গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আবেদন অনুযায়ী দ্রুত ও নির্বিঘ্নে বাকি অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।


















