ঢাকা, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান-এমডিসহ চার পরিচালকের পদত্যাগ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানি উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) একযোগে চার পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এমডি ছাড়া বাকি তিন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একটি পক্ষের অনৈতিক চাপে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফওর সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

পদত্যাগ করা পরিচালকরা হলেন– উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির এবং আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস।

এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহও পদত্যাগ করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়ালি উল্লাহ প্রতিষ্ঠানটির এমডি হিসেবে যোগ দেন। এসব পরিচালকদের পদত্যাগের ফলে বর্তমান পরিচালক হিসেবে থাকলেন কেবল দুইজন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে আছেন মোহাম্মদ শফিউল আজম। এছাড়া উত্তরা গ্রুপের সিএফও ও পরিচালক মাহবুব আলম এফসিএমএ দায়িত্বে আছেন।

তবে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির একটি পক্ষ মিলে এসব পরিচালকদের ওপর নানা অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। সামলাতে না পেরে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

আমানতের টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে নিজের মতো ব্যবহারসহ বিভিন্ন জালিয়াতির দায়ে ২০২২ সালে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বছরের ২৮ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা উত্তরা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ৫ পরিচালককে অপসারণ করা হয়।

অপসারিতরা হলেন– তখনকার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা রাশেদুল হাসান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মতিউর রহমান, তার ভাই ও পরিচালক মুজিবুর রহমান, উত্তরা পরিবারের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকিয়া রহমান ও নাঈমুর রহমান।

মূলত ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করে আমানতের টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে নিজেদের মতো ব্যবহার, কলমানির টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ বের করা, ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণসহ অন্তত তিন হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ