ঢাকা, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ন

পেরুতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়ার পথে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা কেউই বেঁচে যাননি।

রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিমানটি পর্যটকদের নিয়ে পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।

দুর্ঘটনাটি ইকা বিভাগের পিসকো এলাকা থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পর ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে ঘটনাস্থলে কোনো আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ১১ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানটির কারিগরি অবস্থা, আবহাওয়া এবং উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পেরুর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ নাজকা লাইনস। দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমিতে অবস্থিত এই বিশাল ভূ-চিত্রগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে নাজকা সভ্যতার মানুষ তৈরি করেছিল বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ এবং জ্যামিতিক নকশার এই চিত্রগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে আকাশ থেকে দেখা যায়। এ কারণে পর্যটকদের জন্য নিয়মিত দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

নাজকা লাইনসকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংস্থাটি এটিকে বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছে

পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। মাচু পিচুর পাশাপাশি নাজকা লাইনসও দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ