হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও কমছে না চালের দাম। হঠাৎ করে গেল দুই দিনের ব্যবধানে হিলি খুচরা বাজারে আমদানিকৃত চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর চাল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে কম শুল্কে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।
এদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও কমছে না চালের দাম। হঠাৎ করে গেল দুই দিনের ব্যবধানে হিলি খুচরা বাজারে আমদানিকৃত চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে হিলির খুচরা বাজারে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত সকল প্রকার চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। রত্না জাতের চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৬। ৫০ টাকার মিনিকেট চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৩ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া দাম বেড়েছে স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা চালেরও।
চাল কিনতে আসা কয়েকজন পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা জানান, চাল আমদানির শুরুর সময় চালের দাম কমে ছিল। এখন আবার তা বাড়ছে। দাম বাড়ায় তাদের চাল কিনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে জানিয়ে কারা চালের দাম বাড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

বাজারের চাল বিক্রেতা স্বপন জানান, আমদানি শুরুর প্রথম দিকে বাজারে চালের দাম কিছুটা কম ছিলো। গেলো দুই দিন থেকে চালের দাম প্রকার ভেদে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এই বিক্রেতা জানান, তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করছেন ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক অভিনাশ দাস জানান, সরকার চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর এক সঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আমদানি শুরু করায় ভারতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ। এজন্য চালের দামের ওপর পড়েছে বলে জানান তিনি।
হিলি পানামা পোর্ট লিংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক জানান, চালের আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে চালের সরবরাহ ঠিক রাখতে ও আমদানিকৃত চাল দ্রুত ছাড়করণ ও বাজারজাত করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
হিলি কাস্টসম অফিসের তথ্য মতে, গত ১৮ কার্য দিবসে ভারতীয় ৪০৬ টি ট্রাকে ১৬ হাজার ৪১৬ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে বন্দর থেকে চাল খালাস হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন চাল। যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা।


















