বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে একই সময়ে কম খরচে উন্নত সক্ষমতার চীনা এআই মডেলগুলোর বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক এআই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চীনের এআই মডেলগুলোর ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিককে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সেগুলো কার্যকর, সহজলভ্য এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেই বিশ্ব এআই বাজারে প্রভাব বিস্তার সম্ভব।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এআই রফতানির দুটি কৌশল বড় সমস্যার মুখে পড়েছে। প্রথমত, উন্নত এআই মডেল রফতানিতে অনিয়মিত ও পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রণনীতি। দ্বিতীয়ত, চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং নিজ দেশে উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক এআই ব্যবহারের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর চলতি সপ্তাহে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগ সম্প্রসারণ করেছে। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এআই ও চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক একটি জোট গড়ে তোলা এবং চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি খাত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে আনার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে চীনা এআই মডেল বাজারে আসছে।
সিলিকন ভ্যালির পর কোনখাতে জোয়ার আনবে এআইসিলিকন ভ্যালির পর কোনখাতে জোয়ার আনবে এআই
যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের কর্মকর্তা এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী এমিলি ওয়েইনস্টেইন জানান, ওপেন-সোর্স এআইয়ের ক্ষেত্রে চীন অনেকটা হুয়াওয়ের কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, চীন শুধু এআই মডেল নয়, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও বিনা মূল্যে বা অনেক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম।
তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে চীনা এআই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশগুলো চীনা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) ড্যানিয়েল রেমলার বলেন, অ্যানথ্রপিককে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্তের পর পুরো শিল্পখাত আরও সুসংগত নীতির অপেক্ষায় প্রায় স্থবির হয়ে আছে। তার মতে, যখন চীন সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এ প্রবণতা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ জানান, প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৩৫টি দেশ ডিক্লারেশন অন এআই অপরচুনিটিতে সই করেছে।
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক এআই যুদ্ধ, নেপথ্যে কীআতঙ্ক ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক এআই যুদ্ধ, নেপথ্যে কী
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশীদার দেশ একদিকে ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যদিকে নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনও জোরদার করছে। অ্যানথ্রপিককে ঘিরে সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ শুধু এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়, বরং বিশ্বের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে রাজি করানো।
সূত্র: অ্যাক্সিওস


















