ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ন

ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় ‘জরুরি অবস্থা’ জারি

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রভাবে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া এবং রাজধানী সেভাস্তোপোলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

রুশ-নিযুক্ত সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজবোঝিয়েভ বলেছেন, ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেভাস্তোপলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে।

গভর্নর আরও জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি কর্মীরা কাজ করছেন। তবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি সীমিত ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে যাওয়া যায়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়িতে জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে এবং গণপরিবহন, দোকান, ক্যাফে ও সড়কবাতির পরিচালনায় সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন ও বিমান হামলার জেরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপদ্বীপজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে মস্কো ও ক্রিমিয়ার ওপরও হামলা ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটিই অন্যতম বড় ড্রোন হামলা বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করাই কিয়েভের লক্ষ্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্রিমিয়া।

এদিকে শুক্রবার ইউক্রেনের নিকোপোল শহরে রুশ ড্রোন হামলায় একটি মিনিবাসের দুই যাত্রী নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া সাউমি অঞ্চলেও পৃথক ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

এর আগে, রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিট ডেলিভার নামের একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এ বছর ইউরোপে এ ধরনের মোট নয়টি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। রাশিয়ার দূতাবাস এ ঘটনাকে জলদস্যুতা বলে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে, রাশিয়া-নিযুক্ত ক্রিমিয়ার প্রধান সার্গেই আক্সিনোভ বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক, ঋণসংক্রান্ত এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা ব্যবস্থাপনা সহজ করা, যাতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন করা যায়।

সূত্র: ইউক্রেনিফর্ম/দ্য কিয়েভ পোস্ট

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ