ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ন

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর তথ্য অনুযায়ী, আমিরাতের শহরগুলো এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের প্রায় প্রতিদিনের হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল আবুধাবি।

চলমান এই যুদ্ধে ইসরায়েলের চেয়েও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরান বেশি সংখ্যক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইউএই এই যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে আমিরাত এই গোপন অভিযান পরিচালনা করে। আমিরাতের এই বিশেষ অভিযানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা।

সে সময় ইরান এই হামলার কথা স্বীকার করলেও কোন দেশ এই আক্রমণ চালিয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত আমিরাতের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ইরান প্রায় নিয়মিত বিরতিতে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল। মূলত ইরানের প্রতিদিনের সেই আগ্রাসন মোকাবিলা করতেই আমিরাত এই গোপন সামরিক ক্যাম্পেইন শুরু করে।

পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের এই নতুন মাত্রা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরানের ভেতরে সরাসরি হামলার মতো কোনো বড় পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে করা অসংখ্য আক্রমণের শিকার হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টাহামলার কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই গোপন হামলার তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ফার্স্ট পোস্ট

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ