রানের একটি মালবাহী জাহাজ আটকের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার সকালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে, শনিবার ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথের দিকে অগ্রসর হলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বাজারে এই উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪.৭৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪.৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৮.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও হামলার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য সোমবার পাকিস্তানে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছাবে, যার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তেহরানের সংলাপে অংশ নেওয়ার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল বাজার বর্তমানে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বেশি ওঠানামা করছে। ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করায় তারা সাময়িকভাবে খোলা রাখা প্রণালীটি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে বলে সাফ জানিয়েছে ইরান।

বর্তমান সংকটে এশিয়া মহাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ এই অঞ্চলের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। জ্বালানি সাশ্রয়ে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো নাগরিকদের এসি ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি চীনেও জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইউরোপের কাছে মাত্র ৬ সপ্তাহের বিমানের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দ্রুতই বড় পরিসরে ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সূত্র: বিবিসি


















