বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা)-এর উদ্যোগে আজ (০১ এপ্রিল, ২০২৬) বুধবার রাজধানীর শাহবাগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনর্মূল্যায়নের সমর্থনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বেন্ডস্টার নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮.৫ থেকে ১০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ই-সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করছেন, যাদের অধিকাংশই ধূমপানের ক্ষতি কমানো বা ত্যাগের উদ্দেশ্যে এই বিকল্প বেছে নিয়েছেন। তবে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজার ক্রমেই কালোবাজারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে, যেখানে অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিস্তার ঘটছে। এতে বৈধ ব্যবসায়ী, ব্যবহারকারী এবং সরকারের রাজস্ব—তিন পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বেন্ডস্টা জানায়, তারা সবসময়ই ১৮ বছরের নিচে বিক্রি বন্ধ রাখতে কঠোরভাবে আইন মেনে চলেছে এবং শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের জন্য পণ্য সরবরাহ করেছে। তবে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে একপাক্ষিক তথ্য প্রাধান্য পেয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুবসমাজের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য সরবরাহ কালোবাজারে বাড়ছে। এটি নিষেধাজ্ঞার বিরুপ প্রভাব।
সংগঠনটি জানায়, তাদের অধীনে ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ৬০০-এর অধিক চেইন স্টোর রয়েছে, যেখানে প্রায় ১২,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বেন্ডস্টা জানায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) নিষিদ্ধ না করে নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনেছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ধূমপানকে নির্ভরতা হিসেবে চিহ্নিত করে ধূমপান ত্যাগে ই-সিগারেটকে একটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও দেখা গেছে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সহায়তায় প্রচলিত নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ইএনডিএস খাতে ডিভাইস, পড, ই-লিকুইড, নিকোটিন মাত্রা, উপাদান এবং ব্র্যান্ডভেদে গুণগত পার্থক্য থাকায় ভোক্তাদের পণ্য নির্বাচন একটি তথ্যনির্ভর ও তুলনামূলক মূল্যায়নভিত্তিক প্রক্রিয়া। এ প্রেক্ষিতে বিক্রয়স্থলে পণ্য প্রদর্শন শুধু বিপণন নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তাকারী একটি অপরিহার্য ভোক্তা-নির্দেশনা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে; একইসঙ্গে এসব পণ্য যেহেতু বিশেষায়িত খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সামগ্রিক বাজার কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উক্ত মানববন্ধনে বেন্ডস্টার সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। সংগঠনটি সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী নীতিমালাকে সাধুবাদ জানায়।


















