পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেডের বাংলাদেশ শাখা কিনে নিচ্ছে। ব্যাংক আলফালাহ ৫৮০ কোটি টাকায় ব্যাংক এশিয়ার কাছে বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত ৭৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ব্যাংক আলফালাহর শেয়ারহোল্ডাররা এ অনুমোদন দেন।
পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রায় ৪৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রির এই প্রস্তাব গত ২৭ মার্চ ব্যাংক আলফালাহর বার্ষিক সাধারণ সভায় এর ৯৬.৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার অনুমোদন করেছেন।
ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ কার্যক্রমের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের প্রস্তাবটি এখন ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল বিশেষ সাধারণ সভা ডেকেছে ব্যাংক এশিয়া।
গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংক আলফালাহর সম্পদ ও দায়সহ বাংলাদেশের সমস্ত কার্যক্রম একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হবে। একীভূতকরণের পুরো প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা মেনে সম্পন্ন হবে। এ চুক্তি কার্যকর করতে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুই দেশের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, আমরা সমস্ত নিয়ন্ত্রক বিধি-বিধান মেনে ৫৮০ কোটি টাকায় ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ কার্যক্রম অধিগ্রহণ করছি। এই মূল্যায়ন একটি বিস্তারিত পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এই চুক্তিটি আমাদের ব্যবসা এবং শেয়ারহোল্ডার উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ শাখার মোট সম্পদ ছিল ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। সব দায় বাদ দেওয়ার পর নিট সম্পদ ছিল ১০২ কোটি টাকা। আমানতের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যেখানে কর-পূর্ববর্তী মুনাফা আগের বছরের ৯৩ কোটি টাকা থেকে ৬৯ শতাংশ কমে ২৯ কোটি টাকায় নেমে আসে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি ছিল ৩ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ৩৫১ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
২০০৫ সালে বাহরাইনের শামিল ব্যাংকের ঢাকা শাখা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ব্যাংকটির সাতটি শাখা রয়েছে এবং ১৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।


















