ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ন

তথ্যভিত্তিক তামাক কর নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব: গবেষণা উপস্থাপন করল পলিসি এক্সচেঞ্জ

তামাক করনীতিকে আরও কার্যকর ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করেছে পলিসি এক্সচেঞ্জ। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে প্রণীত এই গবেষণায় তামাক কর নীতিতে ডেটাভিত্তিক সংস্কারের ওপর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে তুলে ধরার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট উইংগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গবেষণার মূল অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে পলিসি এক্সচেঞ্জ। এই উদ্যোগকে একটি যৌথ ও সমন্বিত প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে এনবিআরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কারিগরি সমন্বয়ের ভিত্তিতে গবেষণার বিশ্লেষণ আরও পরিমার্জিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের কাছেও গবেষণার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে পলিসি এক্সচেঞ্জ।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বর্তমান তামাক কর ব্যবস্থার ওপর একটি বিস্তৃত সিমুলেশন ভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক সেরা চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প আবগারি কর কাঠামো প্রয়োগ করলে আগামী এক দশকে সরকারের রাজস্ব আয়, সিগারেটের ব্যবহার এবং বাজারের গতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনার সময় গৃহস্থালি জরিপের তথ্য, অতীতের কর সংক্রান্ত নথি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান অ্যাড ভ্যালোরেম কর কাঠামোর সঙ্গে সম্ভাব্য মিশ্র ও নির্দিষ্ট আবগারি কর ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান বহুস্তর বিশিষ্ট অ্যাড ভ্যালোরেম কর সিস্টেম হয়তো তার কাঠামোগত রাজস্বসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে বিকল্প আবগারি কর কাঠামো গ্রহণ করলে নীতিনির্ধারকদের জন্য কর হার নির্ধারন সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক ফল আসবে। প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান কর কাঠামোয় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা গেলে তামাক থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে, পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত লক্ষ্যও শক্তিশালী হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যমান অ্যাড ভ্যালোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে তামাকপণ্যের ওপর নির্দিষ্ট কর (স্পেসিফিক ট্যাক্স) ব্যবস্থা চালু করা হলে আগামী ১০ বছরে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির বাইরে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব ।

বাংলাদেশে তামাক খাত এখনও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মোট রাজস্ব আহরণের প্রায় ৯ শতাংশ।

নীতিগত সংলাপ ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রকাশিত গবেষণাটি এনবিআর কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, এনবিআরের হালনাগাদ প্রশাসনিক তথ্য ও কারিগরি মতামত অন্তর্ভুক্ত করে সিমুলেশন মডেলটি আরও উন্নত ও বাস্তবসম্মত করার জন্য তারা যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, “বাংলাদেশে তামাক কর এখনো সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। বিভিন্ন কর কাঠামো রাজস্বের স্থিতিশীলতা, সিগারেটের ব্যবহার এবং বাজারের গতিশীলতার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকরা অত্যন্ত জরুরি যাতে নীতিনির্ধারণ একই সঙ্গে রাজস্বের দিক থেকে কার্যকর এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল হয়। আমাদের গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শুধু রাজস্বই বাড়বে না, একই সময়ে তামাকের ব্যবহার প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। অর্থাৎ রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক সাফল্য আনবে।”

এই সহযোগিতার লক্ষ্য স্বাধীন গবেষণা, সরকারি প্রশাসনিক উপাত্ত এবং কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ তামাক কর নীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিশ্লেষণভিত্তি তৈরি করা। এতে করে করনীতি আরও কার্যকর হবে, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্যের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও আর্থিক নীতির ভালো সমন্বয় করা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনটি কর নীতির দক্ষতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে রাজস্ব নীতির সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার বিষয়ে চলমান জাতীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ