ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধের উত্তাপে বিশ্ববাজার অস্থির: তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে হঠাৎ বেড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন দীর্ঘ সময় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইট অপরিশোধিত তেলের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। হংকংয়ের বাজার ৩ শতাংশের বেশি নেমে গেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়। এতে আতঙ্কজনিত বিক্রি ঠেকাতে কিছু সময়ের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়।

এর আগে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় তেল সংরক্ষণাগারসহ একাধিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে মনোনীত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহ পরও দেশটির শাসনব্যবস্থা শক্ত অবস্থানেই রয়েছে—এমন ইঙ্গিতই এতে পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তেলের দাম বাড়লে বিমান জ্বালানি, সার উৎপাদনের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলার জন্য স্বল্পমেয়াদে দামের এই বৃদ্ধি ‘ছোট মূল্য’ মাত্র।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ