ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ন

ড. ইউনূসের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও ভিভিআইপি মর্যাদা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিআইপি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিভিআইপি মর্যাদা ভোগ করবেন। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাঁকে এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

দায়িত্ব পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টাকে এই মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে এবারের সময়সীমা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর এক গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টাকে একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, তবে তা ছিল মাত্র তিন মাসের জন্য। নতুন প্রজ্ঞাপনে ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করে একটি প্রশাসনিক নজির স্থাপন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আদেশের ফলে ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্তরের প্রটোকল ও নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিম-লে তাঁর বিশেষ অবস্থানের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২০০৬ সালের প্রজ্ঞাপনে নিরাপত্তা ও ভিভিআইপি সুবিধা শুধুমাত্র তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকলেও এবার তা চার গুণ বাড়িয়ে এক বছর করা হয়েছে। ২০০২ সালের পুরনো প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সে সময় যে নিয়ম করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন গেজেট তাকে আরও সুসংহত করল। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর আওতায় এই মর্যাদা দেওয়ার ফলে এসএসএফ এখন থেকে ড. ইউনূসের সার্বক্ষণিক সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে ধরণের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া হয়, ড. ইউনূস এখন সেই একই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ