পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, চলমান এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব কেবল যুদ্ধবিরতিই চাননি, পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে মতবিরোধ নিরসনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই দুই দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষই সামরিক পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’-এ এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ। সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে সশস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানও পাল্টা দাবি করেছে যে, এই সংঘাতে পাকিস্তানি সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্নভাবে উঠে এসেছে, তবুও স্পষ্ট যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল ক্রমেই উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান এখন দুই দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা


















