ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

সর্বাত্মক ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনের মতো অচল চট্টগ্রাম

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহত ধর্মঘটে রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য নামানো এবং জাহাজে ওঠানোর কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। বন্দর থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন এবং জাহাজে তোলার জন্য কনটেইনার পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

বেসরকারী ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কর্মসূচি সফলে মাঠে নেমেছে। বেলা ১১টায় স্কপের চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শনিবার রাতে গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বন্দর এলাকায় বিপোল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্য দিকে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী চার নেতাকে সরকারি ছুটির দিনে বদলির ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনর কর্মসূচি চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আজ সকালে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি। যা চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তাতে সমর্থন দিয়েছে স্কপ। ধর্মঘটের সমর্থনে শ্রমিক-কর্মচারিরা বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করছে।

জানা গেছে, সকালের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রমে বন্দরের কর্মচারি ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শুধু এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রম চলছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের ডাকা কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। আশা করি, সরকার তাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিক-কর্মচারিদের এ কর্মসূচিতে ভেদশূন্য হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্কপ।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ