ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন

সুদানে বাংলাদেশি শান্তিকর্মীদের ওপর হামলা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, যখন সুদানের কাদুগ্লি এলাকায় জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিহত ও আহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের তৎপরতা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। গুতেরেস এক্সে পোস্ট করা বার্তায় বলেছেন, “জাতিসংঘের কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সব পক্ষের বাধ্যবাধকতা। জবাবদিহিতা থাকা দরকার।” তিনি নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতিও প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসও এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শনিবার কাদুগ্লির এই হামলায় বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন কর্পোরাল মোঃ মাসুদ রানা, সৈনিক মোঃ মমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা, সৈনিক শান্ত মণ্ডল, মেস ওয়েটার জাহাঙ্গীর আলম এবং লন্ড্রি কর্মচারী মোঃ সবুজ মিয়া।

সুদানের সেনা-সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার জন্য দায়ী হতে পারে দেশের আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। সেনা ও সরকারপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এটিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এপর্যন্ত আরএসএফ এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

উল্লেখযোগ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই দ্বন্দ্ব এখনও চলমান, যার ফলে রাজধানী খার্তুম, দারফুর প্রদেশসহ দেশজুড়ে হাজার হাজার নাগরিক নিহত ও লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সংঘাত থামানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু আপাতত স্থায়ী সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে এবং সুদানের সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ