ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ৩ অঞ্চলে বিভক্ত

নরসিংদীর মাধবদীতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে আবারো কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, আজ সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রার হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির জানান, এটি আগের দিনের প্রধান ভূমিকম্পের আফটারশক।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের আশঙ্কা বিবেচনায় দেশজুড়ে তিনটি ঝুঁকিপ্রবণ জোন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জোন–১: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

জোন–২: মাঝারি ঝুঁকির অঞ্চল

জোন–৩: অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা উচ্চঝুঁকির জোন–১ এ রয়েছে।

ফল্ট লাইন বা প্লেট বাউন্ডারির কাছাকাছি অঞ্চলগুলো সাধারণত বড় কম্পনের ঝুঁকিতে থাকে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর অংশবিশেষ, পুরো কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং খাগড়াছড়ি–রাঙামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে জোন–৩ হিসেবে খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ধরা হয়।

তথ্য বলছে, ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার উল্লেখযোগ্য মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মূলত সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার অঞ্চল।

তাই ভবিষ্যতেও এসব এলাকায় বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন সিলেট–ময়মনসিংহ অঞ্চলও বিশেষ ঝুঁকির তালিকায় আছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে বাংলাদেশ সংলগ্ন পাঁচটি বড় উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে—

প্লেট বাউন্ডারি–১: মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত

প্লেট বাউন্ডারি–২: নোয়াখালী থেকে সিলেট

প্লেট বাউন্ডারি–৩: সিলেট থেকে ভারতের দিকে প্রসারিত
এ ছাড়া ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট–সংলগ্ন ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্প উৎস হিসেবে পরিচিত।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ