ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ন

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবি এনসিপির

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা সরকারের কাছে হস্তান্তরের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করাসহ মোট তিন দফা দাবি জানানো হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালা সরকারের কাছে হস্তান্তরের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করাসহ মোট তিন দফা দাবি জানানো হয়।

এনসিপির দাবিগুলো হলো: প্রথমত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের প্রথম খসড়াটি (প্রস্তাব-১) গ্রহণ করার মাধ্যমে জুলাই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংবিধান সংস্কার বিলের খসড়া দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে এবং তা জনগণের অবগতির জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভিত্তিসম্পন্ন আদেশের খসড়া সরকার গ্রহণ করলেই কেবল এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বা অগ্রগতি তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবিতেই এনসিপি এখন পর্যন্ত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে। আমরা বরাবরই বলে এসেছি, জুলাই সনদ স্রেফ রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো ফাঁকা বুলি বা দলিল নয়; এর অবশ্যই একটি আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখেই এনসিপি স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করবে—এই ছিল আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, এনসিপির এই আপসহীন অবস্থানের ধারাবাহিকতায় গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা সুপারিশ করেছে। আমরা মনে করি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনসিপির অনড় অবস্থানের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি আমরা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।’

এনসিপি জানায়, কমিশন সংবিধান সম্পর্কিত নয় এমন সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন ও অধ্যাদেশের খসড়া সুপারিশ করেছে, যা সরকারের অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে মূল বিতর্ক সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে। এগুলোর বাস্তবায়নে কমিশন দুটি স্বতন্ত্র খসড়া সুপারিশ দিয়েছে (প্রস্তাব-১ ও প্রস্তাব-২)।

এনসিপি মনে করে, সরকারকে অবশ্যই প্রস্তাব-১ বাস্তবায়নের পথে যেতে হবে। কারণ প্রস্তাব-১ এর ৮(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কাজ শেষ করতে না পারলে বিলটি পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হবে। এনসিপির মতে, সনদের ওপর গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা তৈরির জন্য এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় সুপারিশ।

অন্যদিকে, প্রস্তাব-২ এ কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই, যা পুরো সংস্কার কার্যক্রমকেই ভণ্ডুল করে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। তাই প্রস্তাব-২ নয়, সরকারকে প্রস্তাব-১ কেই গ্রহণ করতে হবে। তবে এনসিপি প্রস্তাব-১ এর কিছু ধারার ভাষার অস্পষ্টতা দূর করারও দাবি জানিয়েছে, যেমন ৮(ক) ধারায় ‘করিতে পারিবে’ এর বদলে ‘করিবে’ এবং ৮(ঘ) ধারায় ‘বিবেচনা করিবে’ শব্দগুলো স্পষ্ট করার প্রয়োজন বলে তারা মনে করে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ