ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ ঘিরে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গাজায়। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরায়েল ১৩৫ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে—আর প্রত্যেকটির দেহে দেখা গেছে ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন। এই মৃতদেহগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়েছিল কুখ্যাত ইসরায়েলি আটককেন্দ্র সদে তেইমান-এ, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আগেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই মৃতদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে। কেন এই দেহগুলো ফেরত দেওয়া হলো?—গাজার কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মূলত সাম্প্রতিক মার্কিন-মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে একটি সমঝোতার ফল, যার আওতায় ইসরায়েল কিছু নিহত ফিলিস্তিনির দেহ ফেরত দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর আটক বা নিহত হয়েছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুর্শ এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের মুখপাত্র ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, প্রতিটি মৃতদেহের সঙ্গে থাকা ব্যাগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে দেহগুলো সদে তেইমান আটককেন্দ্র থেকে এসেছে। মরদেহগুলোর ট্যাগ হিব্রু ভাষায় লেখা, এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার তথ্যও তাতে যুক্ত ছিল। এই নথি থেকেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দেহগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটক অবস্থায় ছিল।
সদে তেইমান আটককেন্দ্রটি অবস্থিত নেগেভ মরুভূমিতে—যা ইসরায়েলের সবচেয়ে বিতর্কিত সামরিক আটক কেন্দ্র হিসেবে কুখ্যাত। এই কেন্দ্র থেকে ফাঁস হওয়া ছবি ও সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি বন্দিদের খাঁচায় আটকে রাখা হয়, চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়, হাসপাতালের খাটে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, এমনকি ডায়াপার পরতেও বাধ্য করা হয়। এসব ভয়াবহ আচরণের প্রমাণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।
ডা. বুর্শ বলেন, “আমরা প্রতিটি ব্যাগে হিব্রুতে লেখা ট্যাগ পেয়েছি, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে—‘সদে তেইমান আটককেন্দ্র থেকে প্রেরিত।’ অনেক ট্যাগে ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়ও লেখা ছিল। এটা প্রমাণ করে, এই দেহগুলো সেই কেন্দ্রেই ছিল এবং বহুদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত বছর সদে তেইমান আটককেন্দ্রে ৩৬ জন বন্দির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করে, যা এখনও চলছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব তদন্ত অনেক সময় শুধু ‘প্রতীকী’ মাত্র—বাস্তবে নির্যাতন বন্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গাজার কর্মকর্তারা আরও জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় হামাস কিছু নিহত ইসরায়েলি জিম্মির দেহ ফেরত দিয়েছে, আর ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৭ অক্টোবরের পর নিহত প্রায় ১৫০ ফিলিস্তিনির দেহ হস্তান্তর করেছে। তবে গাজার চিকিৎসকরা বলেন, ফেরত পাওয়া দেহগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে, মৃত্যুর আগে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েল সরকারের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


















