ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ন

প্যারিসে ল্যুভর জাদুঘরে দুর্ধর্ষ চুরি, ম্যাক্রোঁ’র তীব্র নিন্দা

প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীপ্রাপ্ত এই জাদুঘরে চোরেরা মাত্র চার মিনিটে আটটি অমূল্য গহনা চুরি করে পালিয়েছে। ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘটনা “আমাদের ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন এবং চোরদের দ্রুত গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রোববার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯:৩০ মিনিটে, জাদুঘর খুলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাটি ঘটে। চোরেরা অ্যাপোলো গ্যালারিতে ঢুকে দুটি উচ্চ সুরক্ষিত কেস থেকে নেপোলিয়ন যুগের গহনা চুরি করেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, চোরেরা পেশাদার এবং সংগঠিত অপরাধী, যারা শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক মূল্যবান জিনিসের ওপর হামলা চালিয়েছে। চুরি হওয়া জিনিসগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য ছাড়াও, এর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

চোরেরা স্কুটার ব্যবহার করে গ্যালারির জানালা কেটে প্রবেশ করেছে। একটি বাস্কেট লিফট ব্যবহার করে তারা জানালার কাছে পৌঁছেছে। দুজন চোর হলুদ সেফটি ভেস্ট পরে নির্মাণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, “দুজন লিফটে উঠে জানালা ভেঙে ঢুকল, পুরো কার্যক্রম মাত্র ৩০ সেকেন্ডে শেষ হয়।” চোরেরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে পালিয়েছে এবং পালানোর পথে ইউজেনির মুকুট ফেলে দিয়েছে, যা পরে উদ্ধার করা হয়।

চুরি হওয়া জিনিসগুলো হলো:

কুইন মেরি-আমেলি ও কুইন হরটেন্সের টায়ারা ও নেকলেস (স্যাফায়ার সেট থেকে), একটি কানের দুল, মেরি-লুইসের এমেরাল্ড নেকলেস ও জোড়া ইয়াররিং, “রেলিকোয়ারি” নামে ব্রোচ, ইমপ্রেস ইউজেনির টায়ারা ও একটি বড় ব্রোচ। ইমপ্রেস ইউজেনির মুকুটে ১,৩৫৪টি হীরা এবং ৫৬টি পান্না রয়েছে। অ্যাপোলো গ্যালারিতে আরও অমূল্য রত্ন আছে, যেমন রিজেন্ট, স্যান্সি এবং হরটেনসিয়া হীরা।

জাদুঘরটি “বিশেষ কারণে” সারাদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেছেন, “এটা একটি বড় চুরি, গহনাগুলোর মূল্য অসীম।” সংস্কৃতি মন্ত্রী রশিদা দাতি বলেছেন, চোরেরা পেশাদার এবং জাদুঘরগুলো এখন প্রায়শই টার্গেট হয়ে উঠেছে। তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ল্যুভরের ইতিহাসে এর আগে ১৯১১ সালে মোনা লিসার শিল্পকর্মটি চুরি হয়েছিল, যা দুই বছর পর উদ্ধার হয়। ১৯৫৬ সালে একজন দর্শক চিত্রটিতে পাথর নিক্ষেপ করে ক্ষতি করেছে। সম্প্রতি জাদুঘরের কর্মীদের অভাব ও পর্যটকদের বড় ভিড়ের কারণে নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই চুরি ফরাসি ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

তথ্যসূত্র : প্রাইমটাইমার

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ