ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প-পুতিনের দীর্ঘ ফোনালাপ, বুদাপেস্টে বৈঠকের ঘোষণা

ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনালাপে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। দুই পরাশক্তির এই শীর্ষ নেতাদের কথোপকথন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা ঘিরে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ) দুই নেতার মধ্যে হয় দীর্ঘ এক ফোনালাপ, যা ট্রাম্পের ভাষায় “বড় ধরনের অগ্রগতি” অর্জন করেছে। এই আলাপের পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে বৈঠকে বসবেন। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় এখনো ঠিক হয়নি, তবে ট্রাম্পের এমন ঘোষণা নতুন করে এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো—যে যুদ্ধকে ট্রাম্প “অগৌরবজনক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে জেলেনস্কি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঠিক তার আগের দিনই পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এক কৌশলগত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।

ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, আজকের টেলিফোন আলাপে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে।” তাঁর ভাষায়, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান এই অগৌরবজনক যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব কি না, তা দেখতে আমরা পুতিনের সঙ্গে বুদাপেস্টে বৈঠকে বসব।” তিনি আরও যোগ করেন, বৈঠকের বিষয়ে উভয় নেতা সম্মত হয়েছেন।

এ ছাড়া ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে এক প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করবেন। তবে সেই বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এটি মূলত হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটও রয়েছে। রাশিয়া সম্প্রতি শান্তিচুক্তিতে অগ্রসর হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুতিনের প্রতি হতাশা জানিয়ে আসছিলেন। তাই নতুন এই ফোনালাপ ও আসন্ন বৈঠকের ঘোষণা অনেকের কাছে এক নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কের গতিপথে এক নতুন অধ্যায়ও খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

অন্যদিকে, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে “দ্বিধাহীন ও আস্থাপূর্ণ” আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, দুই নেতার বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে রাশিয়ান প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে ট্রাম্প ও পুতিনের দ্বিতীয় মুখোমুখি বৈঠক। এর আগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় দুই নেতা দেখা করেছিলেন, যদিও সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তথ্যসূত্র : এএফপি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ