ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ন

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে ২ লক্ষাধিক আনসার-ভিডিপি

বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৫ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা নয়দিন সারাদেশের ৩১ হাজার ৫৭৬ পূজামণ্ডপে দুই লক্ষাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আনসার সদর দপ্তরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৭ হাজার ৫৪টি পূজামণ্ডপে আটজন, গুরুত্বপূর্ণ ১০ হাজার ৯৭২টি পূজামণ্ডপে ছয়জন এবং সাধারণ ১৩ হাজার ৫৫০টি পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪ জেলায় ৯২টি ব্যাটালিয়ন আনসার স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে এবং যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোতায়েনকৃত সদস্যরা দুর্ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন।

প্রশিক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম

ডিজি জানান, গত এক বছরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ জনকে ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ১৫ হাজার ৮০৭ জনকে উপজেলা আনসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও ১ লাখ ১৪ হাজার ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ৩৭ হাজার ৪২৬ জনকে উপজেলা আনসার প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তারুণ্য, মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কোনো প্রকার সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।” এছাড়া এভিএমআইএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৬০ লাখ সদস্যের তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং এসটিডিএম সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে সহযোগী হিসেবে দেখছে আনসার

মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন সমাজে আস্থা ও স্বচ্ছতা বাড়ায়। সাংবাদিক সমাজকে বাহিনীর অগ্রযাত্রার সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে আনসার-ভিডিপি আশাবাদী যে ইতিবাচক সংবাদ উপস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্যনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বিশ্বাস করে, সর্বাত্মক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ