পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খাঁ জেলার দারাবান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে ১৩ জন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) জানায়, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল যে, দারাবান এলাকায় টিটিপি জঙ্গিরা সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে এবং বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই সেনারা অভিযানে নামে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ১৩ জন টিটিপি জঙ্গি নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন টিটিপির সক্রিয় সদস্য ছিল, যারা গত কয়েক মাস ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিহত জঙ্গিরা সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের ওপর অপহরণ ও টার্গেট কিলিং-এ জড়িত ছিল। এর পাশাপাশি তারা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দারাবান এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলাতেও জড়িত ছিল। এই হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত জঙ্গিদের কার্যকলাপ ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের অংশ, যা পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে পুনরায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এ অভিযানের পর সেনারা পুরো এলাকায় সতর্কতামূলক অভিযান শুরু করেছে, যাতে পলাতক বা লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের চিহ্নিত করে নির্মূল করা যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেনারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
আইএসপিআর বলেছে, দেশের ভেতরে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাদের অভিযান চলমান থাকবে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সর্বদা প্রস্তুত। তথ্যসূত্র : দ্য খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি


















