ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ন

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করলেই নোবেল শান্তি পুরস্কার সম্ভব: ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে বার্তা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় যদি যুদ্ধ চলতে থাকে, তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের কোনো সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে সংঘাত বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরি করতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ম্যাক্রোঁ জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর যদি ইসরায়েল ফ্রান্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ফ্রান্স তার জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “যদি এমনটা হয়, আমরা জবাব দেবো। সবকিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। তবে আমাদের শান্তি ও বন্ধুত্বের পথ বেছে নেওয়াই উচিত।”

ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এমন একজন যিনি গাজার যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের বর্তমান নীতি কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং নিজেদের জনগণকে অবিরাম যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন কারণ যেসব অস্ত্র দিয়ে গাজার যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করছে, ফ্রান্স নয়।”

তিনি বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার কেবল তখনই সম্ভব, যদি গাজায় যুদ্ধ থামে। “সেজন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন,” ম্যাক্রোঁ বলেন।

ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েল যদি ফ্রান্সের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, ফ্রান্স সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি গাজায় যুদ্ধ চলতে থাকে, যদি সেনারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে থাকে, আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারব না।”

ফ্রান্স ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা ইসরায়েল এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইসরায়েলিদের বোঝানো হচ্ছে যে এটি শান্তির উদ্যোগ এবং ফ্রান্স এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে সোমবার লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, অ্যান্ডোরা, ফ্রান্স, মাল্টা, মোনাকো ও সান মারিনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর একদিন আগে ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণার ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫৯টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। তথ্যসূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ