ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, শান্তির সময় এসেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের কোনো ন্যায্যতা নেই।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে ম্যাক্রো এখনই দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে রোববার যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের মধ্যে ১৫২টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে এখন বাকি থাকল যুক্তরাষ্ট্র।
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, অ্যান্ডোরা ও সান মারিনোও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।

এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা।
গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার পরিস্থিতিকে ‘নৈতিক, আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দুই রাষ্ট্র সমাধানই ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তির একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ।
ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভারচুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রত্যাহার করায় তিনি নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকতে পারেননি। আব্বাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র, যেখানে কোনো অস্ত্র থাকবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ শান্তির ওপর নির্ভরশীল।’
ফ্রান্স জানিয়েছে, গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে তারা শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে প্যারিসে ফিলিস্তিন দূতাবাস খোলা হবে কেবল তখনই, যখন জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হবে।
রোববার রাতে প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ারে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি দেশের পতাকা উড়ানো হয়।
এদিকে গতকালই ফ্রান্স ও সৌদি আরব জাতিসংঘে এক দিনের সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্র সমাধান। তবে জি–৭ এর সদস্য জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র এ বৈঠকে অংশ নেয়নি।


















