ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন

অবরোধ তুলে নেওয়ায় ভাঙ্গায় যান চলাচল স্বাভাবিক

সংসদীয় আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ও পুরোনো সীমানা বহালের দাবিতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আন্দোলনরতরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পূর্ব ঘোষিত তৃতীয় দফার তিনদিনের কর্মসূচির শেষ দিনে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হামিরদি ইউনিয়নের পুখুরিয়া ও হামিরদি এলাকায় কিছু সময় অবরোধ করলেও পরক্ষণেই তুলে নেন স্থানীয়রা।

তবে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কোথাও অবরোধের ঘটনা ঘটেনি।

পাশাপাশি সোমবার হওয়া সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে অন্যদিনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের চাপ কম রয়েছে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়কের হামিরদি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখেন। পরে নিজেদের সমঝোতায় সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা। তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ সময় স্থানীয়রা ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনে দুই ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

দাবিগুলো তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম খান বলেন- আলগী চেয়ারম্যানকে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে, দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, রাতের বেলায় প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করা যাবে না এবং নতুন করে মামলা দেওয়া যাবে না। এসব শর্ত না মানলে আন্দোলন চলবেই।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ৪ অগাস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নকে পাশের ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করা হয়।

এর প্রতিবাদে গত কয়েকদিনে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তিন দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করেছে স্থানীয়রা। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ।

চলমান এই বিক্ষোভ-অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের ঘটনায় রোববার রাতে ৯০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

অন্যদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকালে ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুটি স্থানে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতদিন উপজেলার আলগী ও হামেরদীবাসী আন্দোলন করলেও এদিন অন্য ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন।

বেলা ১টার দিকে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার জনতা লাঠিসোঁটা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিছিল নিয়ে যোগ দেন। মুহূর্তেই সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান তারা।

এ সময় ১০ থেকে ১২ জন আর্মড পুলিশ সদস্য দৌড়ে গিয়ে পাশের ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদে আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মসজিদের লোকজন অবস্থান নিয়ে তাদের রক্ষা করেন।

এরপর সেখান থেকে বিক্ষুদ্ধরা থানার দিকে চলে যান। তারা থানায় থাকা গাড়ি ও থানা ভাঙচুর করেন। তখন ভেতরে আটকা পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়েও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আগুন দেওয়া হয় সেখানে থাকা মোটরসাইকেলে। পরে ভাঙচুর চালানো হয় হাইওয়ে অফিস ও পৌরসভা কার্যালয়ে।

রাত ১০ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার সহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, ইউনিয়ন দুটিকে পুরনো আসনে রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনাকরণে রাতেই নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ