গাজা সংকটের মধ্যে কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর আরব ও মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দোহায় অনুষ্ঠিত এই গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল কাতারের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করার উপায় এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় জিসিসির অসাধারণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং অংশ নেন জিসিসির অন্যান্য শীর্ষ নেতা ও মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই। বৈঠক আয়োজনের কারণ ছিল হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়স্থলকে লক্ষ্য করে কাতারকে হামলা। হামলায় কাতারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বদর সাআদ মোহাম্মেদ আল-দোসারি নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ, স্কুল ও কূটনৈতিক মিশনও বিপদে পড়েছে।
জিসিসি সুপ্রিম কাউন্সিল এক যৌথ বিবৃতিতে হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা এটিকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নেতারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, জিসিসির নিরাপত্তা অখণ্ড এবং কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠা চুক্তি ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশে আক্রমণ মানেই সকলের ওপর আক্রমণ। তারা কাতারের পাশে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সম্পদ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জিসিসি নেতারা সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন গাজায় যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি এবং শান্তি উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। শীর্ষ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং কাতারের নিরাপত্তা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্সের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করা হয়েছে। এছাড়া জিসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অন্য দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতি মেনে চলার। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা



















