চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে দারোয়ানের মারধরের জেরে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হলেও দায়ের কোপেও কয়েকজন জখম হয়েছেন। বর্তমানে সবাই চবির মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৪-২৫ সেশনের এক ছাত্রী হলে ফিরতে দেরি হওয়ায় দারোয়ানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান ছাত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে দারোয়ানকে ধরতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “আমি স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই হলে ফিরেছিলাম। কিন্তু দারোয়ান দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে তিনি আমার গলায় চড় মারেন ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল মাসনুন বলেন, “আমাদের বিভাগের ছোট ভাইরা খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। দারোয়ানকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়। কিছুদূরে গিয়ে আমরা তাকে ধরে ফেললেও স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।” এসময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ গুরুতর আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসন বিষয়টি জানার পরই নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ পাঠানো হয়। তবে রাত পৌনে ১টার দিকে সহকারী প্রক্টর মো. কোরবান আলী ও নাজমুল হোসাইন পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও স্থানীয়দের দখলে থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ বলেন, “নাজমুল ও কোরবান স্যার দুজনই আহত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছেন।”
রাত সাড়ে তিনটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।


















