ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২:৩২ পূর্বাহ্ন

দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি রোধে নতুন আইন

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুলের ক্লাস চলাকালীন মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইন পাস হয়েছে। এই আইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি কমানো এবং পড়াশোনা, সামাজিক জীবন ও মানসিক বিকাশে মনোযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। আইনটি আগামী ২০২৬ সালের মার্চ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

নতুন আইনটি ক্লাস চলাকালীন সময়ে ফোন এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে সাহায্য করবে। আইনটি বুধবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে পাস হয়, যেখানে ১৬৩ জন সদস্যের মধ্যে ১১৫ জন ভোট দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। আইন প্রণেতারা এবং অভিভাবকরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার তাদের পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সামাজিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ স্কুল ইতিমধ্যেই ফোন ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তবে এবার আইন সারা দেশে বাধ্যতামূলক হবে। এই আইন শিক্ষকদের ক্ষমতা দেয় শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার, স্কুলে ফোন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম শিখানোর নির্দেশ দেয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রমও রাখে—যেমন প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার শিক্ষার্থীরা সহায়ক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে, এবং জরুরি বা শিক্ষাগত কাজে ফোন ব্যবহার করা যাবে।

আইনের সমর্থকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ১০–১৯ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী স্মার্টফোনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন যে, সামাজিক মাধ্যমে বুলিং, ভিডিও স্ক্রোলিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল ব্যস্ততা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। একজন অভিভাবক বলেন, “ছাত্রদের স্কুলে পড়াশোনা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, কিন্তু ফোনের কারণে তারা এসব করতে পারছে না।”

শিক্ষকদের মধ্যে আইন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কোরিয়ান ফেডারেশন অফ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন আইন সমর্থন করেছে, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করে। অন্যদিকে, কোরিয়ান টিচার্স অ্যান্ড এডুকেশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কিছু শিক্ষক মনে করেন যে আইনটি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারের অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। কিছু শিক্ষার্থীও সন্দিহান যে শুধুমাত্র ফোন নিষিদ্ধ করলেই আসক্তি সমস্যার সমাধান হবে কি না।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীরা ‘সুনিউং’ নামে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কলেজ প্রবেশ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মজীবনের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউশন এবং বাড়ির হোমওয়ার্কের কারণে ফোনে আসক্ত থাকার সময় পায় না। তবে আইন বিশেষভাবে ক্লাস চলাকালীন সময়ের জন্যই প্রযোজ্য, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্কুল কার্যক্রমে মনোযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।

এই আইন শুধুমাত্র ফোন নষ্ট বা কেড়ে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার, সঠিক ব্যবহার শেখানোর এবং তাদের পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে মনোযোগ বাড়ানোর দিকেও নজর রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল আসক্তি কমাতে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ