ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ন

অ্যালবামের পুরনো ছবি স্মার্টফোনে স্ক্যান করার সহজ উপায়

নব্বইয়ের দশক কিংবা তারও আগে তোলা ফিল্ম ক্যামেরার পারিবারিক ছবিগুলো এখনো বহু মানুষের ঘরে অ্যালবাম কিংবা বাক্সে সাজিয়ে রাখা আছে।

নব্বইয়ের দশক কিংবা তারও আগে তোলা ফিল্ম ক্যামেরার পারিবারিক ছবিগুলো এখনো বহু মানুষের ঘরে অ্যালবাম কিংবা বাক্সে সাজিয়ে রাখা আছে। সময়ের সঙ্গে এসব ছবি বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্মার্টফোনের কারণে এখন খুব সহজেই ছবিগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

নিচে পুরনো ফিল্ম ছবিকে সহজভাবে স্ক্যান করার কিছু কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হলো—

আলোর সঠিক ব্যবহার

ছবি স্ক্যানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোর ব্যবহার। তাই ফোনের ফ্ল্যাশ অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে, যেন প্রতিফলন না পড়ে। আশপাশের আলো যেন সরাসরি না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে ছবিতে উজ্জ্বল দাগ পড়ে যেতে পারে। ছায়া বা অতিরিক্ত আলোর প্রতিবিম্ব এড়াতে নিরপেক্ষ সাদা আলো বেছে নেয়া ভালো। জানালার পাশের প্রাকৃতিক আলো সবচেয়ে ভালো। যদি আলো ছড়ানো যন্ত্র (ডিফিউজার) থাকে, তবে সেটির সাহায্য নিলে আরো নিখুঁত আলো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সঠিক অ্যাঙ্গেল নির্বাচন

ছবির কোণ বাঁকা বা বিকৃত হয়ে গেলে মূল ছবির সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই ছবির প্রিন্টটিকে যতদূর সম্ভব সমতল করে রাখতে হবে, যাতে এর কিনারাগুলো একে অন্যের সঙ্গে লম্বভাবে থাকে। পরে এডিট করে অ্যাঙ্গেল ঠিক করা গেলেও ছবির গুণগত মান কিছুটা কমতে পারে। তাই শুরুতেই সঠিক অ্যাঙ্গেল ধরে ছবি তুললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

নির্ভরযোগ্য ও স্ট্যান্ডার্ড লেন্সের সঙ্গে জুমের সঠিক প্রয়োগ

সাধারণ স্মার্টফোন ক্যামেরার মূল লেন্স ব্যবহার করাই ভালো। বাড়তি জুম করলে ছবির বিষয়বস্তু বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পোর্ট্রেট কিংবা ম্যাক্রো মোডে ছবি না তোলাই ভালো। কারণ এতে ছবি ঝাপসা হয়ে যায়, যা ফিল্ম ছবির ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত।

স্ক্যান করার জন্য অ্যাপ ব্যবহার

ছবি স্ক্যানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ ব্যবহার করলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। যেমন আইস্ক্যানার অ্যাপ ডকুমেন্ট স্ক্যান করার জন্য হলেও ছবিও ভালোভাবে স্ক্যান করতে পারে। ফটোস্ক্যান অ্যাপে গ্লেয়ার বা বাঁকা কোণ নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। মাইক্রোসফট লেন্স অ্যাপে কোণ নির্ভুলভাবে কাটার সুবিধা রয়েছে।

ছবি এডিটের নানা উপায়

ছবি স্ক্যান করার পর প্রাথমিক কিছু এডিট করলে ছবিগুলো আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রঙ, উজ্জ্বলতা ও ধার বাড়ানোর জন্য নির্ভরযোগ্য কিছু অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন লাইটরুম, স্ন্যাপসিড বা অ্যাডোবি এক্সপ্রেস। এসব অ্যাপে ছবি কেটে নেয়া, ঝাপসা ঠিক করা ও রঙের ভারসাম্য বজায় রাখা খুব সহজ। চাইলে এসব অ্যাপ দিয়ে একাধিক ছবির কোলাজও তৈরি করা যায়।

নেগেটিভ স্ক্যান করার কৌশল

কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছবির প্রিন্ট হারিয়ে গেছে, শুধু নেগেটিভ ফিল্মটিই অবশিষ্ট আছে। এক্ষেত্রে উজ্জ্বল আলো (যেমন টিউব লাইট) পেছনে রেখে নেগেটিভ ফ্রেমটি সামনে ধরতে হবে ও ফোন দিয়ে সরাসরি ছবি তুলতে হবে। এরপর যেকোনো এডিটিং অ্যাপে গিয়ে ইনভার্ট ফিচার ব্যবহার করে ছবি পজিটিভ করা সম্ভব।
পুরনো ছবি মানেই অমূল্য স্মৃতি। এসব ছবিতে ধরা থাকে সময়, ভালোবাসা আর প্রিয় মানুষের মুখ। তাই স্মার্টফোন ও সহজ প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব ছবি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। মেকইউজঅব অবলম্বনে

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ