ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

গাজা থেকে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে লিবিয়ায় পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় বসবাসরত প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১০ লাখ বাসিন্দাকে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইসরাইলকে সর্বদা এ বিষয়ের হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তিনটি সূত্র জানিয়েছে। শনিবার (১৬ মে) যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করার পরই প্রশাসন গাজাবাসীদের লিবিয়ায় স্থানান্তরের চিন্তা শুরু করে। যদিও এখন পর্যন্ত লিবিয়ার সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি, আলোচনা চলছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, বিনামূল্যে আবাসন, ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লিবিয়াকে রাজি করাতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এনবিসির তথ্যমতে, এই আলোচনার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কোনো মন্তব্য করেনি। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আদৌ কতজন গাজা ছেড়ে লিবিয়া যেতে আগ্রহী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম। তিনি একে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও বলেন, যদি সত্যিই এমন পরিকল্পনা থেকে থাকে তবে তিনি এর কঠোর নিন্দা জানাচ্ছেন। নাইম বলেন, “ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভূমি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় লড়াই করতে প্রস্তুত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের, বাইরের কেউ তা চাপিয়ে দিতে পারে না।”

উল্লেখ্য, লিবিয়া গত ১৪ বছর ধরে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত; সেখানে পশ্চিমে আব্দুল হামিদ দ্বেইবেহ ও পূর্বে খলিফা হাফতারের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের লিবিয়ায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই বাস্তবতায় গাজার ফিলিস্তিনিদের এমন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে স্থানান্তরের প্রস্তাব কেবল অমানবিকই নয়, বরং বাস্তবতাবিবর্জিতও বলেই অনেক বিশ্লেষকের মত। তথ্যসূত্র : এনবিসি নিউজ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ