করোনায় আক্রান্ত হয়ে জসিম উদ্দিন (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিলস্নায় পাঠানো হয়। সেখানেই ধর্মীয় রীতি মেনে তার লাশ দাফন করা হয় বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশমাতৃকার সেবায় তার এমন আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। তাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ- এমনটাই আশা করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম উদ্দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। করোনাকালে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ২৫ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি ফকিরাপুলের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা বলেন, নমুনার ফলাফল আসার পর তাকে পুলিশ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর বুধবার সকালে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, জসিম উদ্দিন করোনা পজেটিভ ছিলেন অর্থাৎ তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় জসিম উদ্দিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিলস্নায় পাঠানো হয়। সেখানেই ধর্মীয় রীতি মেনে তার লাশ দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, করোনাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনের পরিবারের পাশে সর্বোতভাবে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ।



















