যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন হবে। আজ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের ভোটে বিজয়ী ইলেকটোরাল প্রতিনিধিরা এক সঙ্গে বসে তাদের ভোট দিবেন। আর এই ভোটের মধ্য দিয়েই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কে চূড়ান্ত বিজয় পাচ্ছে তা নিশ্চিত হবে। সিএনএন।
এ অবস্থায় আজ সোমবার ৫০ অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ইলেকটররা সভায় বসছেন ভোট দিতে। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজ তাদের ভোটে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ও কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। জো বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত হলেও নির্বাচনের এক মাস পরও ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করেননি। এমনকি ইলেকটোরাল কলেজের সভা পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সাধারণত মোট ভোটের হিসাবের মধ্য দিয়েই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে এক রকম নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার মোট ভোটের গণনার পর বিজয়ীর নাম জানা গেলেও তা নিয়ে কম নাটক হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। শুধু তাই নয়, কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পারলেও এ নিয়ে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। সর্বশেষ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজকের দিনটির দিকে তাকিয়ে ভোটের ফল বদলে দেওয়ার নানা চেষ্টা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেসব অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেসব অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকানদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নির্বাচিত ইলেকটোরাল কলেজের স্লেটটি বদলে দেন। কিন্তু এই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আজকের ভোটে জো বাইডেন নিশ্চিতভাবেই প্রেসিডেন্সির জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেকটোরাল ভোটের চেয়ে বেশি ভোট পাবেন।
কিন্তু তারপরও পরাজয় মানতে নারাজ ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে গত শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘খেলা শেষ হয়নি। আমরা এগিয়ে যাব।’ এখানেই থামেননি তিনি, গতকাল রোববার তিনি সুপ্রিম কোর্টকেও এক হাত নিয়েছেন টুইটে। টেক্সাসের করা মামলা খারিজ করে দেওয়ায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব তৎপরতার কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। আজ ইলেকটরদের ভোট দেওয়ার পর নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনে বক্তব্য রাখার কথা। বিদায়ী প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে নানা অপপ্রচার সত্ত্বেও বাইডেন এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও ঐক্যের ডাক দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের একজন সদস্যও যদি লিখিত আপত্তি জানান, তবে তা পৃথকভাবে আইনসভার দুই কক্ষেই আলোচনার জন্য উঠবে। তবে এমন কোনো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা নেবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


















