বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই অবস্থায় কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নেপথ্যে থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে। আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কিছু নেতা। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে এখন যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটা হচ্ছে, গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন বঙ্গন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা।
রাতের আধারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর তাৎকণিকভাবে সারাদেশের মানুষ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শরু করে সবখানেই এখন একটাই আলোচনা বঙ্গবন্ধু বাঙালির অনুভূতি, সেখানে হাত দিলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ওই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বোচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনগুলো এই বিষয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যেসব শরীক দল আছে তারাও যার যার অবস্থান থেকে ভাস্কর্য ভাঙার বিরুদ্দে স্বোচ্ছার হয়েছে, প্রতিবাদ কলেছে, রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিসহ সারাদেশের একযোগে গণজাগরণ শুরু করেছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু যে বাঙালির চেতনা সে বিয়টি বাঙালি আবার প্রমাণ করলো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে, একত্রিত হয়ে সমুস্বরে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো যেভাবে প্রতিবাদ-সমাবেশ বা বিক্ষোভ মিছিল করছে তা দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগে গণজাগরণ শুরু হয়েছে। ভাস্কর্য শধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে অনেক ভাস্কর্য রয়েছে কিন্তু সেগুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, নেই কোনো প্রতিবাদ। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদীরা এই বিষয়কে উষ্কে দিয়ে নিজেরা ফায়দা নিতে চাইছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



















