ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ন

বিকল ডেমু ট্রেনগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত, তৈরি হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে

বিকল হওয়া ১৪ সেট ডেমু ট্রেন দেশীয় পদ্ধতিতে মেরামত করতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এ পদ্ধতিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের প্রযুক্তিতে একটি ডেমু ট্রেন মেরামত করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় রেলওয়ে।

গত বৃহস্পতিবার রেলভবনে ডেমু ট্রেনের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বিকল ডেমু দেশীয় প্রযুক্তিতে মেরামত করতে কমিটি করার নির্দেশনা দেন।

স্বল্প দূরত্বের যাত্রী পরিবহনের জন্য ২০১৩ সালে চীন থেকে ২০ সেট (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ডেমু ট্রেন কেনে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ট্রেনগুলো একটানা ২০ বছর চলার সক্ষমতা থাকলেও ৮ বছরের মাথায় ১৪টি ট্রেন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে ঢাকার লোকশেডে ৭টি, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ৬টি এবং লালমনিরহাটে মেরামতের অপেক্ষায় আছে ১টি ডেমু ট্রেন। ৬ সেট ট্রেন বিভিন্ন রুটে চলছে।

গত ৯ অক্টোবর রেলপথমন্ত্রী পার্বতীপুরে দেশীয় প্রযুক্তি ও সাশ্রয়ী মূল্যে মেরামত করা একটি ডেমু ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এ কাজে ডেমুর মূল মডিউলগুলোকে বাজারে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রেলওয়ের কয়েকজন প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান এবং বুয়েটের একজন প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে কাজ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়ালের পর ডেমু সেটটি সচল করা হয়। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে বিকল ডেমু ট্রেন নিজেদের প্রযুক্তিতে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

এসব বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘দেশীয় প্রযুক্তিতে একটি ডেমু ট্রেন মেরামত করতে আমাদের খরচ হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এটি যদি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মেরামত করা হতো, তাহলে সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ হতো। মেরামতের ক্ষেত্রে মূল প্রযুক্তিতে যেখানে ৪০টি ব্যাটারি ছিল, সেখানে চারটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনের অপারেটিং সিস্টেমটা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের যে ছয়টি ডেমু ট্রেন চালু আছে কোনো কারণে নষ্ট হলে সেগুলোকেও আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে ট্রান্সফার করা হবে। বাকি ১৪টি ট্রেন মেরামতের জন্য আমরা কমিটি করে দিয়েছি। দেশীয় প্রযুক্তিতে গেলে বিকল ট্রেনগুলো মেরামতে কেমন ব্যয় হবে তারা এটি মূল্যায়ন করবে। তারা প্রতিবেদন দিলে রাজস্ব বাজেটের মধ্য থেকে আমরা মেরামত করার চেষ্টা করব।’

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় ডেমু ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ার কয়েকটি কারণ। সেখানে বলা হয়, ডেমু ট্রেনে উচ্চ প্রযুক্তির সফটওয়্যার নির্ভর মডিউলসহ ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। যা সম্পর্কে রেলের প্রকৌশলীদের তেমন কোনো ধারণা নেই। এসব মডিউল ও যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং করে ডেমুতে সংযোজন করার প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মেকানিক্যাল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডেমু ট্রেন মেরামতের জন্য প্রয়োজন হয় আলাদা ওয়ার্কশপ, যা বাংলাদেশ রেলওয়ের নেই। তবে দেশীয় পদ্ধতিতে মেরামত করে কতদিন চলবে সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদি দুই মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আবারও টাকা জলে যাবে। তাই ডেমু থেকে রেলের চোখ ফিরিয়ে আনা উচিত।’

প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, চীনের সিএনআর টানসান রেলওয়ে ভেহিকল কোম্পানি থেকে ডেমু কেনা হয়েছিল। শুরু থেকে বিতর্ক থাকলেও ৪২৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে কেনা হয় ৬৪৫ কোটি টাকায়। দুই ইঞ্জিন এবং এক বগি নিয়েই এক সেট ডেমু। সেবার পরিবর্তে ডেমু এখন রেলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ