ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

‘জেড’ গ্রুপ নিয়ে কঠোর অবস্থানে বিএসইসি, সুফল পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি উন্নতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দেয়ার কারণে কোম্পানিগুলো জেড ক্যাটাগরিতে পাঠায় বর্তমান কমিশন। ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমতে থাকে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। তবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানরি ক্যাটাগরি উন্নতি হওয়ায় শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরাও এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ২৮টি কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে পাঠায় কমিশন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি জেড ক্যাটাগরি থেকে বেরিয়ে আসছে।

বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শেয়ার বাজারে চলছে ভাঙ্গা গড়ার খেলা। কারসাজির কারনে যেসব শেয়ার এত দিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল, কারসাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে সেই সব শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে বিনিয়োগকারীদের। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ভালো শেয়ারে আগ্রহ দেখা গেছে, এখন তারা বুঝতে পারছে খারাপ শেয়ার বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া যাবে না। যে কারণে খারাপ শেয়ারে অব্যাহত দরপতন চলছে বলে মনে করছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে ‘জেড’ থেকে ’এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। দেশ গার্মেন্টস ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে ‘জেড’ থেকে ’বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনও বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালন করে জেড ক্যাটাগরি থেকে বের হয়ে এসেছে।

এছাড়া সোনালী আঁশ সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করায় কমিশনের নির্দেশে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনালী আঁশ-এর কোম্পানি সচিব বিজনেস আই বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ঘোষণাকৃত অধিকাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের দেয়া হয়েছে। আগামীকাল কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক বাকি ডিভিডেন্ডও দেয়া হবে। সুতরাং আশা করি ২/১ দিনের মধ্যেই আমাদের কোম্পানির ক্যাটাগরির উন্নতি হবে।

জানা গেছে, আরো কিছু কোম্পানি খুব শিগগিরই জেড ক্যাটাগরি থেকে বের হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো হচ্ছে- অ্যাড ফার্মা, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যাসিফিক ড্যানিমস লিমিটেড, ফরচুন সুজ, ভিএফএস থ্রেড, লিব্রা ইনফিউশন ও লুব-রেফ বাংলাদেশ।

এনার্জিপ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালন না করায় এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনকেও জেড ক্যাটাগরিতে পাঠায় সংস্থাটি। পরবর্তীতে কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন করে কোম্পানিটি বি ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়।

একজন বিনিয়োগকারী জানান, কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপের কারণেই আমরা সুফল পাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেসব কোম্পানি বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালন করবে না, তাদের ব্যাপারেও কমিশন যেন এধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একসচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বিজনেস আই বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান কমিশন যেসব কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিত পাঠিয়েছে, সেটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই৷ এতে করে অন্যান্য কোম্পানিগুলো সতর্ক হবে। তাদের ভুলগুলো সংশোধন করবে। মার্কেট ভালো হবে। তবে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নিয়েই যেভাবে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটির ব্যাপারে আমার দ্বিমত আছে। অতি দ্রত কঠোর পদক্ষেপ নিলে বাজারে নেগেটিভ ম্যাসেজ যায়।
বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাজারেও এর নেগেটিভ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমি বর্তমান কমিশনকে বলবো, তারা যেন ধীরস্থির ভাবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন চরম সংকটে থাকা পুঁজিবাজারে আবার বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হচ্ছে। এতে বাড়তে শুরু করেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব খোলার প্রবণতা।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)  এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে ৬ হাজার ৯৪৯টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিন (৩০ সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজারে বিও হিসাব ছিল ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮১৭টি। আর আগস্ট মাসের শেষ দিন বিও হিসাব ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৮টিতে দাঁড়ায়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ